বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে বদলি, গভর্নরকে 'স্বৈরাচার' বলার অভিযোগ
বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা বদলি, গভর্নরকে 'স্বৈরাচার' বলার অভিযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে বদলি, গভর্নরকে 'স্বৈরাচার' বলার অভিযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে 'স্বৈরাচার' বলার অভিযোগে বদলি করা হয়েছে। তারা গত ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছিলেন। আট দিনের মাথায় মঙ্গলবার তাদের ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। এর আগে গতকাল তাদের কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

কর্মকর্তাদের পরিচয় ও বদলির স্থান

বদলি হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন:

  • নওশাদ মোস্তফা: বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক, যিনি নীল দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। তাকে প্রধান কার্যালয় থেকে বরিশাল অফিসে বদলি করা হয়েছে।
  • এ কে এম মাসুম বিল্লাহ: বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি, যিনি রংপুর অফিসে বদলি হয়েছেন।
  • গোলাম মোস্তফা: বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক, যিনি বগুড়া অফিসে বদলি হয়েছেন।

এই তিন কর্মকর্তাই নীল দলের নেতা হিসেবে পরিচিত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংবাদ সম্মেলনের ঘটনা

জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের পর ও সরকার গঠনের আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে এই তিন কর্মকর্তা বক্তব্য দেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগ, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গভর্নরকে 'স্বৈরাচার' আখ্যা দেন। এ ছাড়া গভর্নরের ব্যক্তিগত পছন্দে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক উপদেষ্টা নিয়োগের বিরোধিতা করেন তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ নিয়ে পুরো ব্যাংক খাতে অস্থিরতা ছড়িয়ে দেওয়া চেষ্টা করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বদলির প্রক্রিয়া ও নিয়ম

এই ঘটনায় গত সোমবার তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের ১০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। আর ৮ দিনের মাথায় আজ তাদের বদলি করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্টাফ রেগুলেশন অনুযায়ী, কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলন, সভা, সেমিনার, বক্তব্য বা বিবৃতি দেওয়ার জন্য গভর্নরের অনুমোদন নিতে হয়। আবার গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়ে কোনো আপত্তি থাকলে অভ্যন্তরীণ ফোরামে আলোচনার সুযোগ থাকলেও এভাবে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করা যায় না।

ব্যাংকের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আজ দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, 'তাঁদের কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

এই ঘটনাটি ব্যাংক খাতের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নিয়মকানুনের গুরুত্ব তুলে ধরেছে, যা বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনায় প্রভাব ফেলতে পারে।