রামগড় স্থলবন্দর চালু প্রস্তুত, অপেক্ষা শুধু সরকারি সিদ্ধান্তের
রামগড় স্থলবন্দর চালু প্রস্তুত, অপেক্ষা সরকারি সিদ্ধান্তের

খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি ও যাত্রী পারাপারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। এখন শুধু দুই দেশের সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। সিদ্ধান্ত হলেই পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম এই স্থলবন্দরটি চালু করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাণিজ্যিক গুরুত্ব

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ১১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ স্থলবন্দরটির মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসাম, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র জানায়, রামগড় স্থলবন্দর চালুর প্রক্রিয়া আবারও সক্রিয় হয়েছে। গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতির কারণে বিষয়টি স্থগিত ছিল।

পরিদর্শন ও মতবিনিময়

শিগগিরই নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বন্দর পরিদর্শনে রামগড় সফর করতে পারেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান বলেন, 'রামগড় স্থলবন্দরের শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু চালুর অপেক্ষা। এটি দ্বিপাক্ষিক সিদ্ধান্তের বিষয়। দুই দেশের সম্মতি মিললেই বন্দরটি চালু করা যাবে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অবকাঠামো নির্মাণ

জানা যায়, ২০০৩ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময় রামগড় শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দরে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ভূমি অধিগ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়। রামগড় পৌরসভার মহামুনি এলাকায় প্রায় ১০ একর জমির ওপর প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে তিনতলা বন্দর ভবন, প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, ওয়্যারহাউজ, পার্কিং ইয়ার্ড, ওপেন স্ট্যাক ইয়ার্ড ও ওয়েব্রিজসহ প্রয়োজনীয় স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যাত্রী ও পণ্য সেবা

রামগড় স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ইমিগ্রেশন ভবনে একই ছাদের নিচে কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবা পাওয়া যাবে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে। অন্যদিকে, বন্দরকে কেন্দ্র করে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নয়ন করা হয়েছে। বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়কে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের পাশাপাশি সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ভারতের অর্থায়নে নির্মিত 'মৈত্রী সেতু-১' ইতোমধ্যে চালু হয়েছে, যা রামগড়কে ত্রিপুরার সাব্রুমের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দরটি চালু হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়বে। বিশেষ করে নির্মাণসামগ্রী, প্লাস্টিক পণ্য, খাদ্যপণ্য ও তৈরি পোশাক রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।