চট্টগ্রামে টিসিবির ট্রাকসেল বন্ধ, নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ
চট্টগ্রামে টিসিবির ট্রাকসেল বন্ধ, নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ

চট্টগ্রামে টিসিবির ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। গত ৩১ মে থেকে ট্রাকে সব ধরনের পণ্য বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এতে বেকায়দায় পড়েছেন নিম্নআয়ের লোকজন। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ ও শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকার লোকজন কম মূল্যের পণ্য কিনে জীবনধারণের সুযোগ পেতেন, সেই সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হবেন।

ট্রাকসেলের বিবরণ

সংশ্লিষ্টরা জানান, টিসিবি ঈদের আগে ১০ দিনের জন্য ট্রাকসেল শুরু করেছিল। প্রতিদিন নগরীর ২০টি পয়েন্টে ক্রেতাদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রি করা হতো। যাদের কাছে টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড নেই, তাদের জন্য সরকার ট্রাকের মাধ্যমে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেয়। কিন্তু হঠাৎ করে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩১ মে থেকে পণ্য বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

ট্রাক থেকে একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ ২ লিটার ভোজ্যতেল, ১ কেজি চিনি ও ২ কেজি মসুর ডাল কিনতে পারতেন। প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১৩০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৮০ টাকা ও প্রতি কেজি মসুর ডাল ৭০ টাকা দরে বিক্রি করা হতো। সব পণ্য একসঙ্গে কিনলে একজন ক্রেতার খরচ হতো ৪৮০ টাকা, যা খুচরা বাজার থেকে কিনতে ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা লাগে। অর্থাৎ সাশ্রয় হতো ২২০-২৪০ টাকা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিম্নআয়ের মানুষের প্রতিক্রিয়া

নিম্নআয়ের লোকজন জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণেও নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। টিসিবির ট্রাকসেলে ক্রেতা ছিল সবচেয়ে বেশি। বাজারের চেয়ে তুলনামূলক দাম কম হওয়ায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির পণ্য কিনেছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজন। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিসহ নানা কারণে একদিকে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমেছে, অন্যদিকে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। এমন পরিস্থিতিতে সুলভে নিত্যপণ্যের জন্য স্বস্তির ঠিকানা ছিল টিসিবি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পোশাক শ্রমিক নূরজাহান বেগম জানান, ইপিজেড মোড় থেকে ট্রাকসেল থেকে আগে পণ্য নিতাম। এখন কয়েকবার গিয়ে ফেরত এসেছি। টিসিবির ট্রাক এখন আর আসে না। শুনছি তারা মাল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কিনলে কিছু টাকা সাশ্রয় হয়।

ফ্যামিলি কার্ডধারীদের তথ্য

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টিসিবির ট্রাকসেল বন্ধ থাকলেও ফ্যামিলি কার্ডধারীরা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পণ্য পাচ্ছেন। চট্টগ্রাম নগরীতে এখন টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডে প্রতি মাসে পণ্য পাচ্ছেন ১ লাখ ৫ হাজার পরিবার। আর চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডে প্রতি মাসে পণ্য পাচ্ছেন ১ লাখ ৯৬ হাজার পরিবার। ফ্যামিলি কার্ডধারীরা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট ডিলারদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ৩০ টাকা করে ৫ কেজি চাল, ৮০ টাকা দামে ১ কেজি চিনি, ৭০ টাকা দামে ২ কেজি মসুর ডাল এবং ১৩০ টাকা দামে ২ লিটার ভোজ্যতেল পেয়ে থাকেন।

টিসিবির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

টিসিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক (অফিস প্রধান) মিশকাতুল আলম বলেন, ঈদের আগে ২১ মে থেকে ট্রাকসেল শুরু করা হয়েছিল। এখন সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ট্রাকসেল বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত আসলে এবং পণ্য বরাদ্দ পেলে আবারও ট্রাকসেল শুরু করা হবে।