আগেভাগেই বিদায় নিল তুরস্ক। টানা দুই হারে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গেল তারা। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে হারের পর আজ ১০ জনের প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে গেল এক ম্যাচ বাকি থাকতেই।
ম্যাচের শুরুতে ধাক্কা
সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটা ছিল তুরস্কের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো। খেলা শুরুর মাত্র ৬৫ সেকেন্ডেই হুলিও এনসিসোর ফ্লিক থেকে পাওয়া বল জালে পাঠান মাতিয়াস গালারজা। সেটিই পরে ম্যাচের একমাত্র গোল হয়ে থাকে।
তুরস্কের আধিপত্য, কিন্তু গোল নেই
গোল খাওয়ার পর থেকেই ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে তুরস্ক। একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। মের্ত মুলদুরের শক্তিশালী হেড ক্রসবারে লেগে পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে। দ্বিতীয়ার্ধে কেনান ইয়িলদিজও কাছাকাছি গিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর শট যায় সাইড নেটে।
লাল কার্ডের নাটক
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। তুরস্কের মুলদুরের সঙ্গে মুখ ঢেকে কথা বলায় মিগুয়েল আরমিরনকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। নতুন নিয়মে এটি প্রথম লাল কার্ড। ম্যাচের বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় প্যারাগুয়েকে।
সংখ্যার বিচারে তুরস্কের ব্যর্থতা
প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় একজন কমে যাওয়ার পর তুরস্ক আক্রমণে চাপ আরও বেশি বাড়ানোর সুযোগ পায়। কিন্তু আক্রমণে ধারহীনতায় তা কাজে লাগেনি। অপটার হিসাব অনুসারে, ম্যাচে মোট ৩২টি শট নিয়েছে তুরস্ক, যার মাত্র ৫টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে মাত্র ৭টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে ২টি।
শেষ মুহূর্তের সুযোগ নষ্ট
ম্যাচের শেষ দিকে গোলের দুটি ভালো সুযোগ এসেছিল তুরস্কের। ৮৯তম মিনিটে কান উজুনের দূরপাল্লার শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। ফিরতি বলও কাজে লাগাতে পারেননি ওগুল। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে আর্দা গুলেরের ক্রস থেকে মেরিহ ডেমিরালের হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়।
অভূতপূর্ব রেকর্ড
সুযোগ নষ্টের এই মহড়াই শেষ পর্যন্ত তুরস্কের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে। দুই ম্যাচ মিলিয়ে দলটি নিয়েছে মোট ৬২টি শট, কিন্তু একটিতেও গোল হয়নি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা দুই ম্যাচে গোল না করেও এত বেশি শট নেওয়ার নজির আর নেই।
গ্রুপের অবস্থা
‘ডি’ গ্রুপে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের পয়েন্ট দুই ম্যাচে তিন করে। তুরস্কের ২০২৬ বিশ্বকাপের পুরো গল্পই যেন এখানেই।



