প্যারাগুয়ে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ গোলে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পৌঁছেছে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অন্যতম বড় অঘটন। সোমবারের এই ম্যাচে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে ড্র থাকার পর পেনাল্টিতে জয় পায় প্যারাগুয়ে।
পেনাল্টিতে জয় এবং পরবর্তী প্রতিপক্ষ
জোসে কানালে নির্ণায়ক পেনাল্টিটি গোলে পরিণত করে প্যারাগুয়েকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন। এর আগে প্যারাগুয়ের দুইটি পেনাল্টি মিস হলেও জার্মানির হাভার্টজ, নিক ভল্টেমেডে এবং জোনাথান তাহ পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। প্যারাগুয়ে এখন শেষ ষোলোতে ফ্রান্স বা সুইডেনের মুখোমুখি হবে।
ম্যাচের বিবরণ
জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান, যিনি ৩৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গত ৪০ বছরের সর্বকনিষ্ঠ কোচ, তিনি আক্রমণাত্মক লাইনআপ নিয়ে মাঠে নামেন। টুর্নামেন্টে জার্মানির সর্বোচ্চ গোলদাতা ডেনিজ উন্ডাভকে প্রথমবারের মতো একাদশে রাখা হয়। প্রথমার্ধে জার্মানি ২৪৪টি পাস সম্পন্ন করে প্যারাগুয়ের ৩১টি পাসের বিপরীতে, কিন্তু কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
প্যারাগুয়ে ধৈর্য ধরে জার্মানির চাপ সামলে নেয় এবং ৩৬তম মিনিটে এনসিসোর হেডারে গোল করে এগিয়ে যায়। এটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্যারাগুয়ের প্রথম গোল। বিরতির পর ৫৪তম মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্টজের ক্রস থেকে কাই হাভার্টজ হেড করে জার্মানিকে সমতায় আনেন।
অতিরিক্ত সময় এবং বিতর্কিত গোল বাতিল
৭৮তম মিনিটে ভির্টজের আরেকটি ক্রস থেকে হাভার্টজের হেড গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল ব্লক করেন। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে জোনাথান তাহের হেড গোলটি ভিএআর পর্যালোচনায় গোলরক্ষকের ফাউলের কারণে বাতিল হয়।
প্যারাগুয়ের এই জয় দক্ষিণ আমেরিকার দলের জন্য বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্য। তারা ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল এবং এরপর বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি।



