অ্যান্ড্রয়েডে বিজ্ঞাপন বন্ধ করুন প্রাইভেট ডিএনএস দিয়ে, জানুন পদ্ধতি
অ্যান্ড্রয়েডে বিজ্ঞাপন বন্ধ করুন প্রাইভেট ডিএনএস দিয়ে

স্মার্টফোনে কোনো অ্যাপ খুললেই ফুল-স্ক্রিন বিজ্ঞাপন, গেমের মাঝপথে ভিডিও অ্যাড কিংবা ওয়েবসাইটে একের পর এক পপ-আপ—এসব বিরক্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন প্রায় সব ব্যবহারকারীই। শুধু ব্যবহারেই বিঘ্ন ঘটে না, অনেক সময় এসব বিজ্ঞাপন থেকে ফিশিং বা ক্লোন ওয়েবসাইটের মতো প্রতারণামূলক লিংকে প্রবেশের ঝুঁকিও তৈরি হয়।

অতিরিক্ত অ্যাপ ছাড়াই বিজ্ঞাপন বন্ধের উপায়

এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই আলাদা ‘অ্যাড-ব্লকার’ অ্যাপ ব্যবহার করেন। তবে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে থাকা একটি বিল্ট-ইন সেটিংস ব্যবহার করেই অধিকাংশ বিজ্ঞাপন সহজে বন্ধ করা সম্ভব। এতে অতিরিক্ত কোনো অ্যাপ ইনস্টল করারও প্রয়োজন হয় না। অ্যান্ড্রয়েড ৯ (পাই) বা পরবর্তী সংস্করণে থাকা ‘প্রাইভেট ডিএনএস’ মূলত একটি নিরাপত্তা সুবিধা। এটি ‘ডিএনএস-ওভার-টিএলএস (ডিওটি)’ প্রযুক্তির মাধ্যমে ফোনের ডিএনএস অনুরোধ এনক্রিপ্ট করে নির্দিষ্ট ডিএনএস সার্ভারের মাধ্যমে পরিচালনা করে।

প্রযুক্তিটি কীভাবে কাজ করে

কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ইন্টারনেটে সংযুক্ত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ডোমেইনের ঠিকানা জানতে ডিএনএস সার্ভারের কাছে অনুরোধ পাঠায়। ‘অ্যাডগার্ড ডিএনএস’-এর মতো বিজ্ঞাপন-ফিল্টারিং ডিএনএস ব্যবহার করলে সেই সার্ভার পরিচিত বিজ্ঞাপন, ট্র্যাকিং এবং কিছু ক্ষতিকর ডোমেইনের অনুরোধ আগেই শনাক্ত করে ব্লক করে দেয়। ফলে বিজ্ঞাপন পরিবেশনকারী সার্ভারের সঙ্গে সংযোগই তৈরি হয় না। এর ফলে অনেক অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন লোড হওয়ার আগেই তা বন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু পুরো প্রক্রিয়াটি নেটওয়ার্ক পর্যায়েই সম্পন্ন হয়, তাই আলাদা কোনো অ্যাড-ব্লকার অ্যাপ ইনস্টল বা ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু রাখার প্রয়োজন পড়ে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাইভেট ডিএনএস চালু করার পদ্ধতি

এই সুবিধা ব্যবহার করতে প্রথমে স্মার্টফোনের ‘সেটিংস’-এ যান। এরপর ‘নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ইন্টারনেট’ অথবা ‘কানেকশনস’ মেনুতে গিয়ে ‘প্রাইভেট ডিএনএস’ অপশনটি নির্বাচন করুন। এরপর ‘প্রাইভেট ডিএনএস প্রোভাইডার হোস্টনেম’ অপশনটি বেছে নিয়ে কাস্টম নেমের জায়গায় ‘dns.adguard.com’ লিখে সেভ করুন। এরপর থেকেই বিজ্ঞাপন পরিবেশনকারী অনেক ডোমেইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হতে শুরু করবে। তবে সব ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনে এই অপশন একই জায়গায় নাও থাকতে পারে। অনেক ফোনে এটি ‘মোর কানেকশন’ সেটিংস, ‘অ্যাডভান্সড সেটিংস’ কিংবা ‘ডিএনএস’ নামে পাওয়া যায়। অপশনটি খুঁজে না পেলে সেটিংসের সার্চ বক্সে ‘প্রাইভেট ডিএনএস’ লিখে খুঁজলেও সেটি পাওয়া যাবে।

যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

প্রাইভেট ডিএনএস সব ধরনের বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে পারে না। যেসব বিজ্ঞাপন সরাসরি কোনো অ্যাপের নিজস্ব সার্ভার থেকে আসে অথবা একই ডোমেইনের মাধ্যমে মূল কনটেন্টের সঙ্গে দেখানো হয়, সেগুলো অনেক সময় প্রদর্শিত হতে পারে। এ ছাড়া কিছু ওয়েবসাইট বা অ্যাপ বিজ্ঞাপন ব্লকার শনাক্ত করে তাদের নির্দিষ্ট কিছু ফিচার সীমিত করে দিতে পারে। তবে অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন কমানোর পাশাপাশি এই পদ্ধতি পরিচিত অনেক অ্যাডওয়্যার, ট্র্যাকিং ডোমেইন এবং কিছু ফিশিং ও ম্যালওয়্যার-সংশ্লিষ্ট ডোমেইন থেকেও সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। ফলে মাত্র একটি সেটিংস পরিবর্তন করেই ব্যবহারকারীরা আরও পরিচ্ছন্ন, দ্রুত এবং তুলনামূলক নিরাপদ স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা পেতে পারেন।