২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ ফিলাডেলফিয়ার লিনকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে হাইতির মুখোমুখি হচ্ছে সেলেসাওরা। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও মাঠে কি ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়রকে দেখা যাবে— এই প্রশ্ন সব ফুটবলপ্রেমীদের।
নেইমারের ইনজুরি আপডেট
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) নিশ্চিত করেছে যে, গ্রেড-টু কাফ ইনজুরির কারণে হাইতির বিপক্ষে এই ম্যাচ থেকেও ছিটকে গেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। সিবিএফ জানায়, নেইমার দলের সঙ্গে ফিলাডেলফিয়াতে ভ্রমণও করেননি। নিউইয়র্কের কাছে নিউ জার্সির মরিস টাউনশিপে ব্রাজিলের মূল বেস ক্যাম্প ও ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিতেই রেখে দেওয়া হয়েছে তাকে, যাতে তিনি পুনর্বাসনের চূড়ান্ত ধাপটি নিখুঁতভাবে শেষ করতে পারেন। এর আগে মরক্কোর বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচেও সাইডলাইনে বসে সতীর্থদের খেলা দেখতে হয়েছিল সান্তোসের এই তারকাকে।
গত মে মাসে ক্লাব দল সান্তোস এফসির হয়ে খেলার সময় ডান পায়ের কাফে চোট পান নেইমার। তৎকালীন সময়ে ব্রাজিলের জাতীয় দলের প্রধান চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার জানিয়েছিলেন, এমআরআই রিপোর্টে নেইমারের ‘গ্রেড-টু কাফ ইনজুরি’ ধরা পড়েছে, যা পুরোপুরি সেরে উঠতে অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। বিশ্বকাপে খেলার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে নেইমার দলের সাথে যোগ দিলেও এখনো ম্যাচ খেলার মতো শতভাগ ফিটনেস ফিরে পাননি।
অবশ্য গত কয়েকদিনে নেইমারের চোটের বেশ উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে তিনি মাঠে হালকা রানিং ও ফিজিক্যাল কন্ডিশনিংয়ের কাজ শুরু করেছেন এবং বুধবার বুট পায়ে বল নিয়েও কিছু সময় অনুশীলন করেছেন, যা দেখে সতীর্থরা তাকে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানান। তবে কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট ব্রাজিল এবার কোনও তাড়াহুড়ো করতে রাজি নয়। হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবং তার কোচিং স্টাফ চাচ্ছেন গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে নেইমারকে বিশ্রাম দিয়ে নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর জন্য তাকে সম্পূর্ণ ফিট অবস্থায় পেতে।
নেইমারহীন ব্রাজিলের পরিকল্পনা
মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে সমতা ফেরালেও আক্রমণভাগে নেইমারের অভাব এবং ক্রিয়েটিভিটির ঘাটতি স্পষ্ট ছিল সেলেসাওদের খেলায়। হাইতি তাদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে তলানিতে থাকলেও তাদের রক্ষণভাগ বেশ লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়েছে। ফলে আজ পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়ে নকআউটের পথ সুগম করতে ভিনিসিয়ুস, রদ্রিগোদের ওপরই ভরসা রাখছেন আনচেলত্তি। কঙ্গো ম্যাচে রোনালদোর নিষ্প্রভতার পর ব্রাজিল শিবিরে একটাই আলোচনা— দলের সেরা তারকাকে ছাড়া সেলেসাওরা আক্রমণভাগে কতটা ধার বাড়াতে পারে।
আগামী ২৪ জুন মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, আর ব্রাজিল ভক্তরা আশা করছেন— হয়তো সেই ম্যাচ দিয়েই আবারও মাঠে দেখা যেতে পারে প্রিয় তারকাকে।



