টাইব্রেকারে ভয়াবহ মিসের মহড়া দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠেছে মরক্কো। মন্তেরেইয়ের ম্যাচটি বোস্টনে জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচের পথেই এগোচ্ছিল। নির্ধারিত সময় ১-১ গোলের ড্র এবং অতিরিক্ত সময়ে কোনো গোল না হওয়ায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারের নাটকীয়তা
টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডস তিনটি শট মিস করে, অন্যদিকে মরক্কো মিস করে দুটি শট। শেষ পর্যন্ত মরক্কো ৩-২ ব্যবধানে জিতে নেয় ম্যাচ। এটি ছিল রীতিমতো অবিশ্বাস্য এক টাইব্রেকার, যেখানে দুই দলই মিসের মহড়া দেয়।
নির্ধারিত সময়ের লড়াই
৭২ মিনিটে কোডি গাকপোর গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। কিন্তু যোগ করা সময়ের (৯১ মিনিট) এক মিনিটের মাথায় মরক্কোর ডিফেন্ডার ইসা দিওপ সমতাসূচক গোলটি করেন। এর আগে ৯৬ মিনিটে মরক্কো ফরোয়ার্ড সুফিয়ান রাহিমি 'পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ' থেকে ডাচ গোলকিপার বার্ট ভারব্রুগেনকে ফাঁকি দিতে পারলে ম্যাচ সম্ভবত টাইব্রেকারে না-ও গড়াত। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের দুই অর্ধেও কোনো দল আর গোল করতে না পারায় খেলা গড়ায় স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকারে।
মরক্কোর আধিপত্য ও গাকপোর শোক
প্রথমার্ধ এবং দ্বিতীয়ার্ধের বেশ কিছুক্ষণ মিলিয়ে মরক্কো তুলনামূলক বেশি ভালো খেলেছে। আফ্রিকার দলটি বেশ কিছু গোলের সুযোগও তৈরি করেছিল, কিন্তু কাঁচা ফিনিশিংয়ে গোল আর হয়নি। ডাচ উইঙ্গার ক্রিসেনসিও সামারভিল মরক্কোর বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের বাধায় পড়ে যাওয়ার আগে কোনোভাবে পাস বাড়ান গাকপোর কাছে। বক্সের ভেতর থেকে জোরাল শটে গোল করেন গাকপো।
গাকপো এবং তাঁর স্ত্রী নোয়া ফন ডার বিজ মিলে তাদের অনাগত সন্তানের নাম রেখেছিলেন এলিজা রাফায়েল গাকপো। কিন্তু পৃথিবীর আলো আর দেখতে পারেনি গাকপো জুনিয়র। মায়ের পেটে থাকতেই ফিরেছে না ফেরার দেশে। নোয়া নিজেই খবরটি কয়েকদিন আগে জানানোর পর কোডির মনের অবস্থা কী হতে পারে! সেই শোককে পাথরচাপা দিয়ে কোডি থেকে যান দলের সঙ্গে। ওই গোলটি কি তার সান্ত্বনা–পুরস্কার? গোলের পর হাঁটু মুড়ে বসে বেশ আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন কোডি গাকপো। বেঞ্চের ডাচ সতীর্থরাও ছুটে গিয়ে তাঁকে ঘিরে ধরে গোলটি উদ্যাপন করেন।
ভাগ্যের পরিহাস
কিন্তু ভাগ্য ভেবে রেখেছিল অন্যকিছু। যোগ করা সময়ে মরক্কো মিডফিল্ডার শেমসদিন তালবির বাঁ প্রান্ত থেকে দেওয়া ক্রসটি ডাচ ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইকের 'ক্লিয়ার' করার কথা ছিল। কিন্তু পেছন থেকে তাঁর চেয়েও বেশি উচ্চতায় লাফিয়ে সমতাসূচক গোলটি করে ডাচদের স্তব্ধ করে দেন মরক্কো ডিফেন্ডার ইসা দিওপ। এরপর আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে মরক্কো জিতে নেয় শেষ ষোলোর টিকিট।



