কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মাইকেল ওলিসে। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের এই জুটি যেন ব্যাটম্যান-রবিনের মতো 'ডায়নামিক ডুয়ো'। এমবাপ্পে শিরোনামে থাকলেও ওলিসের অবদান কম নয়। ফ্রান্সের মাঝমাঠ থেকে অ্যাটাকিং থার্ডে তাদের বিচরণ, গতি, রোমাঞ্চ ও বোঝাপড়া প্রতিপক্ষের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গোল ও অ্যাসিস্টে জুটি
গতকাল ফ্রান্স-সুইডেন ম্যাচে এমবাপ্পের জোড়া গোলের একটিতে অ্যাসিস্ট ওলিসের। অন্যটি বারকোলার গোলে। ওলিসের পাস যেন টেলিপ্যাথিক—কোথায় পাস দিতে হবে, কোথায় দাঁড়াতে হবে, তা যেন প্রোগ্রাম করা। ফ্রান্স আক্রমণে ওঠার সময় প্রতিপক্ষ তাদের থামাতে হিমশিম খায়।
পরিসংখ্যানে ওলিসে
এবার বিশ্বকাপে এমবাপ্পের ৬ গোলের মধ্যে ৩টির উৎস ওলিসে। ফ্রান্সের প্রথম চার ম্যাচে ওলিসে ৫ গোল করিয়েছেন, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। তাঁর আগে ছিলেন হাঙ্গেরির লাজলো বুদাই (১৯৫৪, ৬ অ্যাসিস্ট) ও ইতালির আমাদিও বিয়াভাতি (১৯৩৮, ৫ অ্যাসিস্ট)। এক দলে কেউ ৬ গোল ও অন্য কেউ ৫ অ্যাসিস্ট—এমন সর্বশেষ ঘটনা ১৯৭৪ বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের লাতো ও গাদোচার দেখা গিয়েছিল।
কিংবদন্তি জুটির স্মৃতি
ওলিসের পাস আর এমবাপ্পের গোলের রসায়ন স্মরণ করিয়ে দেয় ১৯৭০ বিশ্বকাপের জেয়ারজিনহো-পেলে, ১৯৫৮ বিশ্বকাপের ফন্তেইন-কোপা, পেলে-দিদি, ১৯৫৪ বিশ্বকাপের ককসিস-বুদাই ও মোরলক-ফ্রিৎজ জুটিকে। ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি ফক্স স্পোর্টসে বলেছেন, 'বল ছাড়াই সে মাঠে যা করে, সেটাই অতুলনীয়...মাঠের পরিস্থিতি যেভাবে দেখে ও বোঝে, সাধারণ খেলোয়াড়দের পক্ষে তা অসম্ভব। কিলিয়ান সব সময় এমভিপি হবে, কিন্তু মাইকেল ওলিসে আমাদের দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।'
অনন্য বোঝাপড়া
সুইডেনের বিপক্ষে বারকোলাকে দিয়ে গোল করানোর পাসটি ছিল নাটমেগ, আর এমবাপ্পেকে গোল করানোর আগে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের মধ্যে মাপা পাস—আশ্চর্য স্বাদের। সেনেগালের বিপক্ষে ডান প্রান্ত থেকে বাঁকানো পাসে এমবাপ্পের গোলটি এখন পর্যন্ত সেরা। ওই একটি বোঝাপড়াতেই নিশ্চিত, বিশ্বকাপের সেরা আক্রমণ জুটির তালিকায় এবার এমবাপ্পে-ওলিসে থাকবেন।



