ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিণত হয় এক জীবন্ত ফুটবল উৎসবে। গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিল ও মরক্কোর ম্যাচকে কেন্দ্র করে টিএসসি থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস। ব্রাজিল সমর্থকদের ‘হেক্সা’ আর আর্জেন্টিনা ভক্তদের ‘সেভেন আপ’ স্লোগানে রাতভর মুখর থাকে রাজধানী।
রাতভর জমায়েত
শনিবার (১৩ জুন) রাত ১০টার পর থেকে টিএসসি চত্বরে ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় জমতে শুরু করে। ক্রমে নীলক্ষেত মোড়, দোয়েল চত্বর ও শাহবাগে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের ঢল। রাত ১২টার পর পুরো এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
রাত পৌনে দুইটা পর্যন্ত চলে স্লোগান ও পতাকা উড়ানোর উৎসব। হাতে পতাকা, মাথায় ব্যান্ড, গায়ে জার্সি পরে সমর্থকরা চায়ের দোকান ও অলিগলিতে জমায়েত হয়ে ভোরের ম্যাচের আগাম প্রস্তুতি নেন।
দুই রঙে বিভক্ত এলাকা
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো এলাকা হলুদ-সবুজ ও আকাশি-সাদায় বিভক্ত। বাঁশির শব্দ, ঢোলের তাল আর স্লোগানে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। পতাকা, ব্যাজ, টুপি ও চাবির রিং নিয়ে ফেরিওয়ালাদের ব্যস্ততাও বাড়তি রং যোগ করে এই উন্মাদনায়।
ব্রাজিল সমর্থকরা কণ্ঠ মেলান ‘হেক্সা এবার আসছেই’ ও ‘ব্রাজিল জিতবেই’ স্লোগানে। তাদের অনেকেই বিশ্বাস করেছিলেন, মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিল দুই গোলের ব্যবধানে জয় পাবে। আর্জেন্টিনা সমর্থকরা আকাশি-সাদা জার্সি পরে ‘সেভেন আপ, সেভেন আপ’ বলে গলা ছাড়েন। মেসির নামে উচ্ছ্বাস জানান তারা।
ফেরিওয়ালাদের ব্যস্ততা
পুরান ঢাকার আরমানিটোলা থেকে আসা ফেরিওয়ালা মো. সবুজ টিএসসিতে পতাকা, টুপি, ব্যাজ ও চাবির রিং বিক্রি করছিলেন। তার ভাষ্যমতে, টুপি ৫০ টাকা, হাতের ব্যান্ড ২০ থেকে ৪০ টাকা এবং চাবির রিং ৩০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ সময়ে স্টেশনারি বিক্রেতা এই মানুষটি নিজে আর্জেন্টিনার সমর্থক, তবে সেদিন মাথায় ছিল ব্রাজিলের ক্যাপ।
দর্শকদের মতামত
ইডেন কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রীতি বলেন, ‘ব্রাজিল সবচেয়ে নান্দনিক ফুটবল খেলে। আজকের ম্যাচে তারা ৩–০ গোলে জিতবে। ফাইনালে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দেখতে চাই—এটাই হবে ইতিহাসের সেরা ম্যাচ।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিতু জানান, তিনি ব্রাজিল সমর্থক হলেও ব্যক্তিগতভাবে চান পর্তুগাল বিশ্বকাপ জিতুক, কারণ রোনালদো সেই যোগ্যতা রাখেন বলে তার বিশ্বাস।
লালবাগ থেকে আসা ফাহিম বন্ধুদের নিয়ে টিএসসিতে আসেন পরিবেশ উপভোগ করতে। তার মতে, ঢাকায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকরাই সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি এবং এই দুই দলকে ঘিরেই গড়ে ওঠে শহরের ফুটবল উন্মাদনা।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনো দলের সমর্থক নই। তবে এই ফুটবল উন্মাদনা দেশের ফুটবল উন্নয়নে কাজে লাগানো সম্ভব।’ তিনি সবাইকে সহিংসতা এড়িয়ে উৎসবের পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানান।
হেক্সার স্বপ্ন আর সেভেন আপের স্লোগানের টানাপোড়েনে টিএসসি থেকে শাহবাগ, নীলক্ষেত থেকে দোয়েল চত্বর—সারা রাত ঢাকা হয়ে ওঠে এক জীবন্ত স্টেডিয়াম।



