জার্মানিকে হারিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর, জাতীয় ছুটি ঘোষণা
জার্মানিকে হারিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর, জাতীয় ছুটি

বিশ্বকাপে ২০ বছর পর নকআউট পর্বে উঠেছে ইকুয়েডর। জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে এই অর্জন নিশ্চিত করেছে দেশটি। ২৬ জুন শুক্রবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এই নাটকীয় জয়ের পর ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া পরের দিনকে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছেন।

প্রেসিডেন্টের ঘোষণা ও প্রতিক্রিয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নোবোয়া লিখেছেন, ‘যেসব খেলোয়াড় ও কোচ সমালোচনা, অপমান আর কঠিন সময়ের পরও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এবং পুরো দেশে এই বিশাল আনন্দ এনে দিয়েছেন, তাদের ধন্যবাদ। আগামীকাল ছুটি! ইকুয়েডর দীর্ঘজীবী হোক।’

ম্যাচের শুরুতে বিতর্কিত গোল

ম্যাচের শুরুটা ছিল ইকুয়েডরের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো। মাত্র দ্বিতীয় মিনিটে গোল করেন জার্মানির লেরয় সানে। তবে গোলটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। গোলের আগে আলেক্সান্ডার পাভলোভিচ ইকুয়েডরের মিডফিল্ডার পেদ্রো ভিতেকে উঁচু বুটে লাগিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ইকুয়েডর ফাউলের প্রতিবাদ করলেও রেফারি টোরি পেনসো গোল বহাল রাখেন এবং ভিএআরও হস্তক্ষেপ করেনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইকুয়েডরের দ্রুত সমতায় ফেরা

সেই ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াল ইকুয়েডর। সাত মিনিটের মধ্যে ভিতে বল কেড়ে নেন। নিলসন আঙ্গুলো বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শট নেন। বলটি পাভলোভিচের পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে ঢোকে। এটি ছিল এই বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের প্রথম গোল এবং তাদের টুর্নামেন্টের ৪০তম শটে আসা প্রথম সাফল্য।

দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি বিতর্ক

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জার্মানি পেনাল্টির দাবি তোলে। কাই হ্যাভার্টজ বক্সে পড়ে যান। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। কারণ বিল্ড-আপে সানে নিজেই ফাউল করেছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিজয়ী গোল ও শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা

৬৪ মিনিটে মাঠে আসেন কেভিন রদ্রিগেজ। ৭৭ মিনিটে কর্নার থেকে তাঁর হেড ফ্লিক পেন এলাকার ভেতরে যায়। সবার আগে পৌঁছান গনজালো প্লাতা। তিনি পা বাড়িয়ে বলটি জালে ঠেলে দেন। ইকুয়েডরের বেঞ্চে রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর ১০ মিনিটেরও বেশি সময় টিকে থাকতে হয়েছে। জার্মানি সমতার জন্য একের পর এক আক্রমণ করেছে। ইকুয়েডর রক্ষণ গুটিয়ে প্রতিটি বল ঠেকিয়েছে। শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে লুটিয়ে পড়েন ইকুয়েডরের খেলোয়াড়রা। গ্যালারিতে সমর্থকরা মেতে ওঠেন আনন্দে।

পরিসংখ্যান ও প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, জার্মানি এই ম্যাচে আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত করে এসেছিল। ইকুয়েডর আগের দুই ম্যাচে একটিও গোল করতে পারেনি এবং গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের মুখে ছিল।