জার্সিতে আরেকটি স্টার লাগাতে চান দানি ওলমো
জার্সিতে আরেকটি স্টার লাগাতে চান ওলমো

সৌদি আরবের বিপক্ষে স্পেনের হয়ে গোল করেছিলেন লামিন ইয়ামাল ও মিকেল ওয়ারসাবাল। তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছেন দানি ওলমো। বড় মঞ্চে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। দলের গুরুত্বপূর্ণ তারকা হয়েও আছেন। দেখছেন আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।

ইউরোর পুনরাবৃত্তির আশা

প্রশ্ন: ইউরো ২০২৪-এ কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে দলে ঢুকে স্পেনকে শিরোপা জিততে সাহায্য করেছিলেন। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে বেঞ্চে ছিলেন, এখন আবার একাদশে। আগের মতো কিছু ঘটতে পারে?

দানি ওলমো: এটা সত্যি যে প্রথম ও দ্বিতীয় ম্যাচের মধ্যে একটা পরিবর্তন মানুষ দেখতে পাচ্ছে। তবে বিষয়টা শুধু পরিবর্তনের নয়। প্রথম ম্যাচে আমি খেলিনি, এই ম্যাচে খেলেছি এবং মাঠে দেখাতে চেয়েছি যে আমি দলকে সাহায্য করতে পারি। আমাকে সব সময় নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে। তারপর গিয়ে খেলতে পেরেছি। আমার জীবন ও ক্যারিয়ার এমনই ছিল। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আশা করি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মতো এবারও একইভাবে শেষ হবে—দলে এসে শিরোপা জয় করে। সুযোগ এলে আমরা সবাই প্রস্তুত, আমিও তার ব্যতিক্রম নই।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

১৬ বছর বয়সী কিশোর থেকে আজকের ওলমো

প্রশ্ন: এখন আপনার বয়স ২৮। ১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনা ছেড়ে যে কিশোর অন্য দেশে গিয়েছিল, তার সঙ্গে আজকের দানি ওলমোর পার্থক্য কী?

দানি ওলমো: আমি কেঁদেছিলাম কি না জানি না (হাসি), তবে সময়টা অবশ্যই কঠিন ছিল। ১৬ বছর বয়সে অন্য দেশ ও নতুন ক্লাবে যাওয়া সহজ নয়। বয়সের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বেড়েছে, কিন্তু আমি মনে করি আমি এখনও সেই একই ছেলে—একই স্বপ্ন, একই উচ্চাকাঙ্ক্ষা, খেলার একই আগ্রহ এবং শিরোপা জয়ের একই ক্ষুধা নিয়ে। এখন আমি সৌভাগ্যবান যে এমন একটি ক্লাবে আছি, যারা সবকিছুর জন্য লড়াই করে এবং এমন একটি জাতীয় দলে আছি, যাদের মানসিকতাও একই। তাই আমি এখনও একই মানুষ। হয়তো একটু ভালো হয়েছি (হাসি) আর অভিজ্ঞতাও বেড়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বার্সেলোনায় ফেরা: নতুন অধ্যায়

প্রশ্ন: বার্সা ছেড়ে জাগরেব, তারপর লাইপজিগ হয়ে আবার বার্সেলোনায় ফিরেছেন। এটাকেই কি আপনার ক্যারিয়ারের সেরা সময় বলবেন?

দানি ওলমো: আমি বলব না যে আমি শিখরে পৌঁছে গেছি, কারণ উন্নতির সব সময় সুযোগ থাকে। এটা সহজ ছিল না। ১৬ বছর বয়সে বার্সা ছাড়ার সময় আমার স্বপ্ন ছিল একদিন ফিরে আসব। অনেক পরিশ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে। এটা মোটেও সহজ ছিল না। এখন আমি সেখানে ফিরে এসেছি বলে মনে হয় না যে চক্রটি শেষ হয়েছে। বরং নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়েছে। বার্সার জার্সিতে, জাতীয় দলের জার্সিতে শিরোপা জিততে চাই। আমাদের একটি জয়ী দল আছে। কঠিন অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের আরও শক্তিশালী করেছে এবং নেশন্স লিগ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে সাহায্য করেছে। আমরা যে কোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত।

মাঠের বুদ্ধিমত্তা ও কোচের প্রভাব

প্রশ্ন: আপনার খেলার বুদ্ধিমত্তা ও ম্যাচ পড়ার ক্ষমতার প্রশংসা হয়। মাঠের বাইরে থেকে কী দেখেন? কোন কোচ আপনাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছেন?

দানি ওলমো: আমি যখন মাঠের বাইরে থাকি, তখন খোলা জায়গাগুলো খুঁজে দেখি। বিশেষ করে বল পেলে কোথায় নিজেকে অবস্থান করাতে পারি বা কোথা দিয়ে আক্রমণ করতে পারি, সেগুলো দেখি। দল কীভাবে রক্ষণে ফিরে আসে, কীভাবে নিজেদের সংগঠিত করে—সবই পর্যবেক্ষণ করি। এটা এমন কিছু, যা ছোটবেলা থেকেই বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করেছি। কৌশলগতভাবে আমাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছেন লুইস এনরিকে। তার অধীনে আমি উইংয়ে খেলতাম, তবে ভেতরে ঢোকার স্বাধীনতা ছিল। তখন পেদ্রি ও জর্দি আলবার সঙ্গে আমরা একটি ত্রিভুজ গড়ে তুলতাম। এখন লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে আমি আরও কেন্দ্রীয় ভূমিকায় খেলি এবং তিনি আমাকে প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা দেন, যা আমার সেরাটা বের করে আনতে সাহায্য করে।

পেদ্রির সঙ্গে বোঝাপড়া

প্রশ্ন: সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো আপনি ও পেদ্রি একসঙ্গে শুরু থেকে খেললেন। অভিজ্ঞতা কেমন?

দানি ওলমো: পেদ্রির সঙ্গে খেলাটা খুব সহজ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় দলে আমরা খুব বেশি সময় একসঙ্গে পাইনি। কিন্তু সেদিনের ম্যাচ দেখিয়েছে যে আমরা পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারি। বার্সেলোনাতেও আমরা প্রমাণ করেছি যে আমরা একে অপরকে খুব ভালো বুঝি এবং একসঙ্গে খুব কার্যকরভাবে খেলতে পারি।

বিশ্বকাপ জয়ের সময় এসেছে?

প্রশ্ন: ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের ফিফথ অ্যাভিনিউতে সাইকেল চালিয়ে উদযাপন করার দৃশ্য কল্পনা করতে পারেন?

দানি ওলমো: অবশ্যই, অবশ্যই। আমি সেটা কল্পনা করতে পারি। আর সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করাও নিশ্চিতভাবে করব।

প্রশ্ন: এই দলে এত প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও, স্পেনের কি এবার বিশ্বকাপ জেতার সময় এসেছে?

দানি ওলমো: এবার দ্বিতীয় তারকা জয়ের সময়। মাঠে আমরা যে মানের ফুটবল খেলি, তাতে সেই সামর্থ্য আমাদের আছে। শুধু ফুটবলীয় গুণই নয়, আমাদের মানবিক গুণও অসাধারণ। আমরা ভালো মানুষদের একটি দল। এটা আমাদের জন্য বড় একটি সুযোগ। আমরা জানি অনেক কিছুই আমাদের নিজেদের ওপর নির্ভর করছে, কারণ আমাদের সেই গুণগত মান আছে। আমরা শিরোপার জন্য লড়তে পারি।

লামিন ইয়ামালের প্রশংসা

প্রশ্ন: এই বিশ্বকাপে হালান্ড, এমবাপ্পে, কেইন, মেসির মতো তারকারা আছেন। লামিন ইয়ামালকে কি তাদের পর্যায়ে দেখেন?

দানি ওলমো: লামিন বিশ্বমানের খেলোয়াড়। অনুশীলনে এবং ম্যাচে প্রতিবার মাঠে নামলেই সে সেটা প্রমাণ করে। তাকে আপনি ওই তালিকায় রাখবেন কি না, সেটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু আমার কোনো সন্দেহ নেই।