ব্রাজিলের সুপারস্টার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি গোল বাতিল হওয়া নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ই-এর ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার ২২তম মিনিটে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার জ্যাক হেনরির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দারুণ এক গোল করেন ভিনি। কিন্তু রেফারি সিজার রামোস গোলটি বাতিল করেন, দাবি করে যে বল কেড়ে নেওয়ার সময় ভিনি ফাউল করেছেন। ভিএআর (VAR) পরীক্ষার পরও সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকে।
রেফারির সিদ্ধান্ত ও ভিনির প্রতিক্রিয়া
রেফারি রামোসের যুক্তি ছিল, ভিনিসিয়ুস বল স্পর্শ করার আগে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে আঘাত করেছেন। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভিনি। যদিও ম্যাচে পরে আরও দুই গোল করে জয়ের নায়ক হন তিনি, তবুও হ্যাটট্রিক মিসের আফসোস থেকে যায়। ভিনি বলেন, ‘গোলটি বাতিল হওয়ায় আফসোস লাগছে। ওটা হলে প্রথম হ্যাটট্রিকটা পেয়ে যেতাম। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দলের জয় এবং আমাদের ছন্দ ধরে রাখা।’
বিশেষজ্ঞদের ভিন্নমত
প্রিমিয়ার লিগের সাবেক সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যান মনে করেন, রেফারি ভুল করেছেন। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, স্কটল্যান্ড এখানে কিছুটা ভাগ্যবান। বল স্পর্শ করার আগে সামান্য সংযোগ হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আমার মনে হয় না ভিনি কোনো ফাউল করেছেন।’
অন্যদিকে, সাবেক স্কটিশ আন্তর্জাতিক ফুটবলার ও সহ-ভাষ্যকার জেমস ম্যাকফ্যাডেন ক্যানের মতের কড়া বিরোধিতা করে বলেন, ‘না, আমি একমত নই। আমার মতে এটি ফাউল ছিল।’
সাবেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার লুকাস লেইভা অবশ্য ভিন্ন মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এটি কোনোভাবেই ফাউল ছিল না। দারুণ প্রেসিং ছিল, ম্যাচ তখনই ২-০ হতে পারত। রেফারি বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন তা দেখার বিষয়, তবে আমার চোখে এটি ফাউল নয়।’
ম্যাচের প্রভাব ও পরবর্তী খেলা
গোল বাতিলের ঘটনা ম্যাচের গতিপথে প্রভাব ফেললেও শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল ভিনির জোড়া গোলে সহজ জয় পায়। এই জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ ই-এ নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে ব্রাজিল। আগামী শুক্রবার (২৬ জুন) একই গ্রুপে ইকুয়েডর-জার্মানি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ব্রাজিলের প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে।



