আলজেরিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার ৩-৩ গোলে নাটকীয় ড্র হওয়া ম্যাচের পর ‘পাতানো’ প্রসঙ্গ উঠলেও তা উড়িয়ে দিয়েছেন অস্ট্রিয়া কোচ রালফ রাংনিক। ম্যাচের আগে তিনি ১৯৮২ বিশ্বকাপের ‘ডিসগ্রেস অব গিজন’-এর সঙ্গে চলমান পরিস্থিতির তুলনা নাকচ করেছিলেন। ম্যাচ শেষে তিনি গুঞ্জনকে উপহাস করে বলেন, এই ম্যাচের রোমাঞ্চকর সমাপ্তি সব ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে স্তব্ধ করে দেবে।
নাটকীয় শেষ মুহূর্তের গোলবন্যা
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে গোলবন্যা বয়ে যায়। ৯৩ মিনিটে আলজেরিয়ার অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। কিন্তু বদলি খেলোয়াড় সাশা কালাইজিচ ম্যাচের শেষ শটে গোল করে অস্ট্রিয়াকে সমতায় ফেরান। রাংনিক বলেন, ‘খেলার আর মাত্র তিন মিনিট বাকি, এমন সময় কেউ যদি বলত এ ধরনের কিছু ঘটতে যাচ্ছে, তবে আপনি তাকে পাগল বলতেন। আমি প্রায় ৪০ বছর কোচিং করছি, কিন্তু এত নাটকীয় মোড় আমার স্মৃতিতে নেই।’
‘পাতানো’ গুঞ্জন উপহাস
ম্যাচের শেষ দিকে দুই দলই ড্রয়ের মানসিকতা নিয়ে খেলছিল—এমন দাবি নাকচ করে রাংনিক বলেন, ‘ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিট যারা দেখেছেন, তারা জানেন খেলোয়াড়রা ড্রয়ের জন্য খেলছিল না। তারা জিততেই চেয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেউ আমাকে বলতে পারবে না যে ৯৩ মিনিটে কেউ পরিকল্পনা করে—“চলো আরেকটা গোল করা যাক।” আলজেরিয়ার দুই-একজন খেলোয়াড়ের মাথায় হয়তো ড্র ধরে রাখার ভাবনা এসে থাকতে পারে, কিন্তু বাকি স্কোয়াড বা আমার দলের ক্ষেত্রে এমনটা মোটেও সত্যি ছিল না।’
নকআউট পর্বে অস্ট্রিয়া
এই ড্রয়ের ফলে ‘জে’ গ্রুপের রানার্স-আপ হিসেবে অস্ট্রিয়া এবং অন্যতম সেরা তৃতীয় দল হিসেবে আলজেরিয়া শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়া। ৪৪ বছরের মধ্যে প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠায় আবেগাপ্লুত রাংনিক বলেন, ‘আমি একই সঙ্গে স্বস্তি পাচ্ছি, নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছি না। এই সুন্দর স্বপ্ন থেকে জেগে ওঠার জন্য কেউ আমাকে চিমটি কাটুক!’



