সুন্দরবনে ফের জলদস্যুতা: ২২ জেলে অপহরণ
সুন্দরবনে ফের জলদস্যুতা: ২২ জেলে অপহরণ

সুন্দরবনের পশ্চিম অংশে আবারও জলদস্যুতা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত দুই দিনে অন্তত ২২ জন জেলেকে অপহরণ করেছে আলিম ও নানাভাই বাহিনী। এ ঘটনায় উপকূলীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (৩ মে) সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতেবেড়ে, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল এলাকা থেকে জেলেদের তুলে নিয়ে যায় দস্যুরা। অপহৃতরা শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

অপহরণের বিবরণ

ফিরে আসা কয়েকজন জেলে জানান, কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে বৈধ অনুমতিপত্র নিয়ে তারা কয়েকদিন আগে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান। এ সময় বিভিন্ন খালে অভিযান চালিয়ে ২৮ থেকে ৩০ জন জেলেকে ধরে নিয়ে যায় দস্যুরা। এর মধ্যে ২২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধরের পর মুক্তিপণ সংগ্রহের শর্তে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকিদের এখনো জিম্মি করে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লোকালয়ের খুব কাছাকাছি এলাকা থেকেও জেলেদের অপহরণ করা হচ্ছে। হরিনগর বাজার থেকে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিটের নৌপথ দূরত্বে থেকেও এমন ঘটনা ঘটছে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তৎপরতার অভাবকে দায়ী করছেন। জিম্মিদের স্বজনরা জানান, এখনো মুক্তিপণের নির্দিষ্ট পরিমাণ জানানো হয়নি। তবে দস্যুরা মোবাইল নেটওয়ার্ক এলাকায় এসে যোগাযোগ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আতঙ্ক ও নিরাপত্তা

এ ঘটনায় হরিনগর, কদমতলা, মরাগাং, চুনকুড়ি ও মথুরাপুর এলাকার জেলেদের মধ্যে চরম ভীতি বিরাজ করছে। সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান বলেন, জেলেদের অপহরণের বিষয়টি কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ দেয়নি। বারবার অপহরণের ঘটনায় সুন্দরবনসংলগ্ন জনপদে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত যৌথ অভিযান চালিয়ে জিম্মিদের উদ্ধার এবং দস্যুদের দমন করতে হবে।