থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে ডুবে যাওয়া এমভি সিলোড আর্ক জাহাজের ১৫ বাংলাদেশি নাবিক ৮২ দিন পর বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন। দুপুরে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
জাহাজডুবির ঘটনা
জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে কন্টেইনার নিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি সমুদ্রে ডুবে যায়। এটি ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা ছিল। কর্মকর্তারা জানান, জাহাজটি ফুকেট উপকূল থেকে প্রায় চার নটিক্যাল মাইল দূরে ডুবে গেলে থাই নৌবাহিনী সব নাবিককে উদ্ধার করে। তবে আইনি জটিলতায় তাদের প্রত্যাবাসন সপ্তাহের পর সপ্তাহ বিলম্বিত হয়।
প্রত্যাবাসনে সহায়তা
বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন নাবিকদের ফেরা নিশ্চিত করে বলেন, ৮২ দিন পর তাদের ফিরে আসা ‘বড় স্বস্তি ও আনন্দের মুহূর্ত’। জাহাজের মাস্টার আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আরও কয়েকদিন থাইল্যান্ডে থাকবেন।
সূত্র মতে, জাহাজটিতে ১০১টি চল্লিশ ফুট ও ৯৬টি বিশ ফুট কন্টেইনার ছিল। জাহাজটি ৫ ফেব্রুয়ারি পোর্ট ক্লাং ছেড়ে ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল।
বিএমএমওএ কর্মকর্তারা জানান, তারা নাবিকদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের (আইটিএফ) মাধ্যমে প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করেন। জাহাজের প্রযুক্তিগত ব্যব chemicalsস্থাপক ন্যাফ মেরিন সার্ভিসেসের সিইও ক্যাপ্টেন মো. সালাহউদ্দিন চৌধুরী থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাস ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সঙ্গে আইনি বাধা দূর করতে সমন্বয় করেন।
সংগঠনটি জাহাজ মালিকদের পিঅ্যান্ডআই ক্লাব, আইনি উপদেষ্টা রাজাহ অ্যান্ড ট্যান (থাইল্যান্ড) ও ফুকেটের বেন লাইন এজেন্সিসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থার ভূমিকার প্রশংসা করে। সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, জাহাজ মালিকরা থাইল্যান্ডে অবস্থানকালে নাবিকদের থাকা, খাওয়া ও বেতন নিশ্চিত করেছিলেন।
তিনি টাইসার্স, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, আইটিএফ ও বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি নাবিকরা আমাদের সম্পদ ও গর্ব। আমাদের সংগঠন যেকোনো সংকটে সবসময় তাদের পাশে থাকবে।’



