ভাস্কর্যের নকশা জার্সিতে ব্যবহারের অভিযোগে সান্ডারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ
ভাস্কর্যের নকশা জার্সিতে ব্যবহারের অভিযোগে সান্ডারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব সান্ডারল্যান্ডের জার্সিতে বিনা অনুমতিতে একটি ভাস্কর্যের নকশা ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন ভাস্কর অ্যান্ড্রু স্মল। প্রিমিয়ার লিগ পয়েন্ট তালিকায় বর্তমানে ১২ নম্বরে থাকা ক্লাবটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, জনপরিসরে বিভিন্ন শিল্পকর্ম স্থাপনের জন্য পরিচিত স্মলের দাবি, ২০০৮ সালে তৈরি করা তাঁর একটি ভাস্কর্যের নকশা হুবহু নকল করে সান্ডারল্যান্ডের চলতি মৌসুমের অ্যাওয়ে জার্সিতে ব্যবহার করা হয়েছে।

ভাস্কর্যের ইতিহাস

লিভারপুলের ভাস্কর্যবিদ স্মলকে ২০০৮ সালে একটি ভাস্কর্য তৈরির দায়িত্ব দিয়েছিল সান্ডারল্যান্ড সিটি কাউন্সিল। ‘সি’ নামে ৩ মিটার উঁচু গ্রানাইট পাথরের বর্গাকৃতি ভাস্কর্যটি ‘সি–টু–সি’ সাইকেল চালানোর পথের সমাপ্তিনির্দেশক হিসেবে স্থাপন করা হয়েছিল। সি-টু-সি (সাগর থেকে সাগর) ইংল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইকেল রুট। ১৩৬ থেকে ১৪০ মাইল দীর্ঘ এই রুটটি উত্তর ইংল্যান্ডের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। আইরিশ সাগরের পাড়ে হোয়াইট হেভেন বা ওয়ার্কিংটন থেকে শুরু হয়ে রুটটি উত্তর সাগরের টাইনমাউথ বা সান্ডারল্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সান্ডারল্যান্ডের রোকার পিয়ার বাতিঘরের ঠিক সামনে স্থাপিত ভাস্কর্যটির মাঝখানে একটি গোলাকার ছিদ্র রয়েছে, যা দিয়ে বাতিঘরটিকে ফ্রেমবন্দী দেখা যায়। ক্যামেরার অ্যাপারচারের আদলে তৈরি ভাস্কর্যটি স্থানীয়দের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

জার্সির নকশা ও বিতর্ক

স্পোর্টসওয়্যার কোম্পানি ‘হামেল’–এর তৈরি সান্ডারল্যান্ডের নতুন জার্সিতে একটি জ্যামিতিক নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে ওই ভাস্কর্যের ছিদ্র দিয়ে বাতিঘর দেখার দৃশ্যটিই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এমনকি জার্সির প্রচারমূলক ভিডিওটিও ধারণ করা হয়েছে ওই ভাস্কর্যের সামনে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সান্ডারল্যান্ড ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবি, এই জার্সির নকশা তৈরিতে ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সালের ‘অ্যাওয়ে কিট’ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। সেই সময়ে ক্লাবটির ঘরের মাঠ ছিল বাতিঘরের নিকটবর্তী ‘রোকার পার্ক’। ক্লাবটির ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়, সান্ডারল্যান্ডের সামুদ্রিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই জার্সি তৈরি করা হয়েছে।

তবে অ্যান্ড্রু স্মলের দাবি, তাঁর কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘অন্তত একবার অনুমতি চাওয়া তো উচিত ছিল। এটি সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি একটি শিল্পকর্ম, কিন্তু তারা এটিকে স্রেফ নিজের করে নিতে পারে না।’

আইনি লড়াই

সান্ডারল্যান্ডের আইনজীবীদের দাবি, জার্সির নকশাটি ভাস্কর্য থেকে অনুপ্রাণিত হলেও তা হুবহু নকল নয়। তাঁদের যুক্তি, ভাস্কর্যটি যেহেতু সবার জন্য উন্মুক্ত স্থানে অবস্থিত, তাই আইনিভাবে এর প্রতিচ্ছবি ব্যবহারের অধিকার তাঁদের রয়েছে।

তবে স্মলের আইনজীবীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, উন্মুক্ত স্থানে থাকা শিল্পকর্মের ছবি তোলা বা আঁকা বৈধ হলেও কোনো প্রতিষ্ঠান তা বাণিজ্যিকভাবে পণ্য উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করতে পারে না।

ক্ষতিপূরণ হিসেবে স্মল জার্সির খুচরা বিক্রয়মূল্যের (৬০ পাউন্ড) ২ শতাংশ (জার্সিপ্রতি ১ দশমিক ২০ পাউন্ড) দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি খুব বেশি কিছু চাইছি না। এটি আসলে নীতির লড়াই।’ লিভারপুলের এই বাসিন্দা জানান, সান্ডারল্যান্ড সমর্থক তাঁর এক বন্ধু যখন জার্সিটির নকশার সঙ্গে ভাস্কর্যের মিলের কথা জানান, তখন বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। এর আগে তিনি কিছুই জানতেন না।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সান্ডারল্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল দ্য টাইমস। ক্লাবটি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।