মাগুরায় দুই আইনজীবীর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ
মাগুরায় দুই আইনজীবীর কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর

মাগুরায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান রাব্বি হত্যা মামলার দুই আসামির জামিন পাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই আইনজীবীর কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বেলা দেড়টার দিকে শহরের জেলাপাড়া এলাকায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে আইনজীবী সমিতির পাশেই এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য

প্রত্যক্ষদর্শী ও কার্যালয়ে হামলার শিকার দুই আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার বেলা দুইটার দিকে আইনজীবী হাবিবুর রহমান (লাবু) ও মো. উজ্জ্বল হোসেনের আলাদা দুটি কার্যালয়ে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল হামলা চালায়। তারা চেয়ার, টেবিল, আলমারি, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে। এ সময় হামলাকারীরা এই দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক মেহেদী হাসান রাব্বি হত্যা মামলার দুই আসামিকে জামিন পেতে সহযোগিতার অভিযোগ তোলে। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেননি এই দুই আইনজীবী।

আইনজীবীদের বক্তব্য

জানতে চাইলে আইনজীবী মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, 'আমি এ বিষয়ে তেমন কিছু জানি না। হাইকোর্ট থেকে এক আসামির জামিন হয়েছে, শুধু বেলবন্ডে (জামিননামা) স্বাক্ষর করেছি। আমার এক সহকারীর আত্মীয় হওয়ায় ওই মামলার ৯ নম্বর আসামি হেদায়েত কুরাইশের বেলবন্ড সামনে ধরলে আমি সই করে দিই। এর বেশি কিছু জানি না। শুনেছি, এ জন্য আমার কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে আইনজীবী হাবিবুর রহমান বলেন, বেলা দেড়টার দিকে ৪০-৫০ জন লোক হঠাৎ এসে ২-৩ মিনিটের মধ্যে তাঁর চেম্বারে ভাঙচুর চালান। এতে টেবিল, চেয়ার ও আলমারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হাবিবুর রহমান আরও বলেন, তাঁর মক্কেল রাব্বি হত্যা মামলার আসামি আজিম প্রায় দুই মাস আগে জামিন পেয়েছিলেন। আজিমের জামিন এবং আইনজীবী উজ্জ্বলের মক্কেল হেদায়েত কুরাইশের সাম্প্রতিক জামিনের বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই এ হামলা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনজীবী সমিতির প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, 'কারা এই ভাঙচুর করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সত্যতা উদ্‌ঘাটন করব এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

পুলিশের বক্তব্য

এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানান তিনি।

মামলার প্রেক্ষাপট

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পারনান্দুয়ালী এলাকায় গুলিতে নিহত হন জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ভাই ইউনুস আলী ১৩ আগস্ট রাতে মাগুরা সদর থানায় সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫০-২০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মাগুরা জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বরুনাতৈল গ্রামের জাহাঙ্গীর শেখের ছেলে আজিম গত ৩০ মার্চ জামিনে মুক্তি পান। তিনি ২০২৫ সালের ১৩ মে থেকে কারাগারে ছিলেন। অন্যদিকে একই মামলার আসামি পারনান্দুয়ালী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে হেদায়েত কোরাইশ ২৩ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পান। তিনি ২০২৫ সালের ৮ মার্চ থেকে কারাগারে ছিলেন। বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার ৪ আসামি জেলা কারাগারে আছেন।