ঈদযাত্রার পাঁচ দিনে যমুনা সেতু দিয়ে ২ লাখ ১৪ হাজারের বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং টোল আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ৪৩ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা। সেতু কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে।
ঈদযাত্রার চিত্র
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ঈদযাত্রীদের চলাচল ঈদের দিন শেষ হয়েছে। এর আগে কয়েকদিন ধরে তীব্র যানজট ও দীর্ঘ ভোগান্তি ছিল। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত মোট ২ লাখ ১৪ হাজার ৩টি যানবাহন সেতু ব্যবহার করে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে—৫৬ হাজার ২৩৯টি।
দৈনিক যানবাহন চলাচল
- রোববার: ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার, টোল আদায় ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি। উত্তরে গেছে ২২ হাজার ১১২টি, ঢাকামুখী ১৭ হাজার ৮০৭টি।
- সোমবার: ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন, টোল ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
- মঙ্গলবার: ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন, টোল প্রায় ৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
- বুধবার: ৪৫ হাজার ৮৮৯টি যানবাহন, টোল ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
- ঈদের দিন: ১৮ হাজার ৭১০টি যানবাহন, টোল ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। উত্তর ও ঢাকামুখী যানবাহন প্রায় সমান ছিল।
যানজট ও ব্যবস্থাপনা
ঈদের আগের দিন ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজট ছিল, যা ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ায়। প্রায় ২০ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক যান চলাচল শুরু হয়। পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ যানজট কমাতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করেছে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, যানবাহনের চাপ সামাল দিতে সেতুর দুই পাশে ১৮টি টোল বুথ চালু ছিল—প্রতি পাশে ৯টি। মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা বুথ রাখা হয়েছিল।
সেতুর গুরুত্ব
১৯৯৮ সালে উদ্বোধন হওয়া যমুনা সেতু রাজধানীকে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে যুক্তকারী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন লিংক।
পূর্বে টোল আদায় কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে হতো। ২০২৪ সালের শেষ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন টোল কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচণ্ড যানজট সত্ত্বেও ২ লাখ ১৪ হাজারের বেশি যানবাহন নির্বিঘ্নে সেতু পারাপার হওয়ায় ঈদযাত্রা সফল হয়েছে।



