ইরানি নারী ফুটবলারদের আশ্রয় সংকটে নতুন মোড়
অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চাওয়া সাতজন ইরানি নারী ফুটবল খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন হঠাৎ ফিরতে চাওয়ায় বাকি ছয়জনকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) পার্লামেন্টে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। তিনি বলেন, এক খেলোয়াড় তার কিছু সহকর্মীর পরামর্শ অনুসরণ করে ফিরে যেতে চেয়েছেন। দুর্ভাগ্যবশত, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তার সহকর্মী ও কোচ তাকে ইরানি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। এর ফলে দূতাবাস জানতে পেরে যায় সকলের অবস্থান। আমি সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদে সরানোর নির্দেশ দিয়েছি।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
টনি বার্ক আরও বলেন, এখন বাকি ছয়জন নিরাপদ স্থানে রয়েছেন এবং অস্ট্রেলীয় পুলিশের পাহারায় আছেন। তাদের সহকর্মীরা মঙ্গলবার রাতে সিডনি থেকে দেশত্যাগ করেছেন এবং শেষবার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেখা গেছে। এই ঘটনাটি ইরানি নারী ফুটবলারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পটভূমি: দেশদ্রোহী আখ্যা ও ইরানের আহ্বান
গত সপ্তাহে ম্যাচে জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার কারণে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাদের ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যায়িত করেছিল। এরপর, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খেলোয়াড়দের দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে এবং বলেছে, চিন্তা করার কিছু নেই— ইরান আপনাদের জন্য হাত প্রসারিত রেখেছে। এই পরিস্থিতি নারী ফুটবলারদের উপর রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ইরানি নারী ফুটবলারদের জন্য একটি সুরক্ষা নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতিতে মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।



