কানাডার ঐতিহাসিক জয়, কাতারের লজ্জা ও ইসমায়েল কোনের পা ভাঙার মর্মান্তিক ঘটনা
কানাডার ঐতিহাসিক জয়, কাতারের লজ্জা ও কোনের পা ভাঙা

ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় রাত কাটিয়েছে স্বাগতিক কানাডা। কাতারকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ জয় তুলে নিয়েছে তারা। তবে এই বড় জয়ের মধ্যদিয়েও বিষাদ নেমে এসেছে কানাডা শিবিরে, কারণ মারাত্মক ফাউলের শিকার হয়ে ভেঙে গেছে তাদের মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের পা।

ম্যাচের শুরুতে কানাডার আধিপত্য

র্যাঙ্কিংয়ের ২৮তম স্থানে থাকা কানাডা ও ৫৮তম স্থানে থাকা কাতারের মধ্যকার এই ম্যাচে শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল শক্তির পার্থক্য। ম্যাচের ১৬ মিনিটেই কাইল লারিনের গোলে এগিয়ে যায় কানাডা। এরপর ৩৩ মিনিটে কানাডার ফরোয়ার্ড তেজন বুকাননকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ। ১০ জনের দলে পরিণত হয় কাতার। এই সুযোগে ২৯ মিনিট ও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও দুটি গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন জোনাথন ডেভিড।

ইসমায়েল কোনের পা ভাঙার মর্মান্তিক ঘটনা

ম্যাচের ৫২ মিনিটে ঘটে সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। বল দখলের লড়াইয়ে পেছন থেকে কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনেকে মারাত্মক ট্যাকল করেন কাতারের আসিম মাদিবো। এতে কোনের বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভেঙে যায়। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময় কানাডার কোচ জেসে মার্চকে কাঁদতে দেখা যায়। ফাউলের জন্য মাদিবোকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেওয়া হলেও, ভিএআর পর্যালোচনার পর তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় কাতার। অনুতপ্ত মাদিবোকে এ সময় সতীর্থদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়। চোটের কারণে প্রায় সাড়ে ছয় মিনিট খেলা বন্ধ ছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবেগঘন গোল উদযাপন ও রেকর্ড

কোনের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ৬৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন নাথান সালিবা। গোল উদযাপনের সময় তিনি আহত সতীর্থ কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরে মাঠে এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেন। এরপর ৭৫ মিনিটে কাতারের মোহাম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। সবশেষে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে জোনাথন ডেভিড নিজের তৃতীয় গোলটি করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এবং দলের ৬-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

একাধিক রেকর্ডের জন্ম

এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে একাধিক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে কানাডা। ১৯৬৬ সালের ফাইনালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের পর দীর্ঘ ৬০ বছর পর স্বাগতিক দেশের কোনো খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়লেন জোনাথন ডেভিড। সব মিলিয়ে তিনি এই তালিকার ষষ্ঠ খেলোয়াড়। এছাড়া, ১৯৩৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ইতালির ৭-১, ১৯৫০ সালে সুইডেনের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৭-১ এবং ১৯৭৮ সালে পেরুর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৬-০ গোলের জয়ের পর, স্বাগতিক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে কানাডা। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে কাতারই প্রথম দল, যারা একই ম্যাচে দুটি লাল কার্ড দেখার পাশাপাশি আত্মঘাতী গোল হজম করার লজ্জার রেকর্ড গড়েছে।

গ্রুপ বি-র পয়েন্ট তালিকা

এই জয়ের ফলে ‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে কানাডা। দুই ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। আগের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারানো সুইজারল্যান্ডের পয়েন্টও সমান ৪ হলেও, গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় তারা গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে।