অক্টোপাস পল: ফুটবল বিশ্বের সেরা ভবিষ্যদ্বাণীকারী
অক্টোপাস পল: ফুটবল বিশ্বের সেরা ভবিষ্যদ্বাণীকারী

ভবিষ্যৎ কি আসলেই দেখা যায়? বিশেষ করে ফুটবল ম্যাচের ভবিষ্যৎ? যেখানে প্রতিমুহূর্তে বদলে যেতে পারে ম্যাচের ফলাফল, সেখানে ম্যাচের আগেই বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে দেওয়া কি আদৌ সম্ভব? ২০১০ বিশ্বকাপে এমনই এক অক্টোপাসকে পেয়েছিল বিশ্ব, যার প্রতিটি ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যাচ্ছিল একদম কাঁটায় কাঁটায়। মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে আলোচিত হয়েছিল অক্টোপাস পলের ভবিষ্যদ্বাণী।

অক্টোপাস পলের জন্ম ও পরিচিতি

অক্টোপাস পলের জন্ম ইংল্যান্ডের ওয়েমাউথ ‘সি লাইফ সেন্টার’-এ। সেখান থেকে জার্মানির ওবারহাউসেনের ‘সি লাইফ সেন্টারে’ নিয়ে আসা হয় তাকে। সেখানেই তার বড় হয়ে ওঠা। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে জন্ম নেওয়া পলকে দিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করানো শুরু হয়েছিল সেই বছরের জুনে। ২০০৮ ইউরোতে জার্মানির প্রতিটি ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করানো হয়েছিল পলকে দিয়ে। নিয়মটা ছিল বেশ সাধারণ। প্রতি ম্যাচের আগে পলের সামনে দুটি কাচের বাক্স রাখা হতো, যার ওপর থাকত দুই দেশের জাতীয় পতাকা। পল যে বাক্সের খাবারটি আগে খেত, ধরে নেওয়া হতো সেই দেশই ম্যাচে জিতবে। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও অক্টোপাস পল নজর কেড়ে নিয়েছিল নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করেই।

২০০৮ ইউরোতে পলের ভবিষ্যদ্বাণী

২০০৮ ইউরোতে পলের ভবিষ্যদ্বাণী ঠিকঠাক ফলেনি। ৬ ম্যাচের ৬টিতেই জার্মানির পতাকা বেছে নিয়েছিল সে। যে দেশে থাকছে, সেই দেশের পতাকাই তো বেছে নেবে! কিন্তু গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়ার কাছে আর ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে ট্রফি খোয়াতে হয় জার্মানিকে। কিন্তু ইউরোতে জনপ্রিয়তা পাওয়া পলকে দিয়ে ২০১০ বিশ্বকাপের ভবিষ্যদ্বাণীও করাতে থাকে জার্মানির সি লাইফ সেন্টার কর্তৃপক্ষ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০১০ বিশ্বকাপে পলের সাফল্য

এবার আর কোনো ভুলই করেনি পল। বিশ্বকাপে জার্মানির খেলা সাতটি ম্যাচের সাতটিরই সঠিক ফলাফল আগে থেকে বলে দিয়েছিল পল! এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল সার্বিয়ার বিপক্ষে জার্মানির হার। পলের ভবিষ্যদ্বাণী সেদিন অক্ষরে অক্ষরে ফলে গিয়েছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পল দেখিয়েছিল সবচেয়ে বড় চমক। জার্মানি বনাম স্পেন ম্যাচের আগে পল বেছে নিল স্পেনের পতাকা। নিজ দেশের পতাকা বেছে না নেওয়ায় জার্মান সমর্থকেরা হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন পলকে। ম্যাচ হারলে পলকে ‘কাবাব’ বানিয়ে খাওয়া হবে! স্পেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ঠাট্টা করে বলেছিলেন, পলের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনে জার্মানিতে সেনাবাহিনী পাঠাবেন। পুয়োলের একমাত্র গোলে সেদিন জিতেছিল স্পেন, আর পল রাতারাতি হয়ে উঠেছিল বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় সেলিব্রিটি।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ও ফাইনাল

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী আর ফাইনাল ম্যাচেও পল ভুল করেনি। উরুগুয়ে-জার্মানি ম্যাচে বেছে নিয়েছিল জার্মানিকে। জার্মানি সেই ম্যাচ জিতেছিল ৩-২ গোলে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস আর স্পেনের ফাইনালে বেছে নিয়েছিল স্পেনকে। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার ঐতিহাসিক গোলে প্রথমবারের মতো শিরোপা নিজেদের করে নেয় স্পেন।

পলের ভবিষ্যদ্বাণীর পেছনের রহস্য

পলের ভবিষ্যদ্বাণী নিছকই মজা। কেউ কেউ আবার স্পট ফিক্সিংয়ের সঙ্গেও যোগসাজশ খুঁজে পেয়েছেন। কেউ বলেন কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দিত কার বাক্স থেকে খাবার খাবে পল। কিন্তু যত কিছুই হোক না কেন, ৮ ম্যাচের ৮টিতেই সঠিক জয়ী দল বেছে নেওয়ার মতো অসম্ভব কাজ সম্ভব করেছে পল। দর্শকেরাও পেয়েছেন আনন্দ।

পলের মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

২০১০ সালের অক্টোবরে মারা যায় পল। মাত্র আড়াই বছর বেঁচে ছিল সে, কিন্তু ফুটবল বিশ্বের কাছে এখনো সে হয়ে আছে আইকন। প্রতি বিশ্বকাপের আগেই এমন অনেক প্রাণী দিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করানো হয় বটে, কিন্তু পলের মতো সাফল্য এখনো পায়নি কেউ।