২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে প্রায় একাই হারিয়ে দিয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে শেষ হাসি হেসেছিল আর্জেন্টিনা। এখন প্রশ্ন: ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ফ্রান্সকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—কিলিয়ান এমবাপ্পে কি ফ্রান্সকে তৃতীয় বিশ্বকাপ এনে দিতে পারবেন? নাকি তাঁর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই দলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়াবে?
এমবাপ্পে: খেলোয়াড়ের চেয়েও বেশি কিছু
বর্তমান ফরাসি দলে এমবাপ্পে শুধু একজন ফরোয়ার্ড নন, তিনি পুরো আক্রমণভাগের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বকাপে ইতিমধ্যে ১২ গোল করে তিনি ইতিহাসের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। ৯৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি এখন দলের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুখ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রান্সের আক্রমণভাগের গতি, কাউন্টার অ্যাটাক এবং ফিনিশিংয়ের বড় অংশই এমবাপ্পেকে ঘিরে আবর্তিত হয়। ফলে প্রতিপক্ষ যদি তাঁকে কার্যকরভাবে আটকে দিতে পারে, তাহলে পুরো দলের ছন্দ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
দেশমের ‘লাস্ট ড্যান্স’
২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশম ফ্রান্সকে ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়, ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং ২০২১ নেশনস লিগ শিরোপা উপহার দিয়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছেন। তাই এবারের বিশ্বকাপ দেশমের জন্য শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং একটি যুগের সমাপ্তি।
তারকায় ভরা আক্রমণভাগ
এমবাপ্পের পাশাপাশি ফ্রান্সের আক্রমণে রয়েছেন উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিজে, রায়ান শেরকি, দেজিরে দোয়ে এবং মার্কুস থুরামের মতো প্রতিভাবান ফুটবলার। দেশম এবার তুলনামূলক আক্রমণাত্মক স্কোয়াড বেছে নিয়েছেন, যা তাঁর রক্ষণাত্মক দর্শনের সঙ্গে কিছুটা ভিন্নতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে অলিজে ও শেরকিকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁদের সৃজনশীলতা এমবাপ্পের ওপর চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দুর্বলতা কোথায়
কাগজে-কলমে ফ্রান্সের রক্ষণভাগ শক্তিশালী হলেও সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ম্যাচে কিছু দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ গোলের পরাজয় রক্ষণভাগের সমন্বয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ম্যাচে এগিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসে ফরাসিরা। মিডফিল্ডেও সৃজনশীলতার চেয়ে শারীরিক শক্তির উপস্থিতি বেশি। ফলে স্পেন বা আর্জেন্টিনার মতো বল নিয়ন্ত্রণে দক্ষ দলের বিপক্ষে ফ্রান্স কতটা কার্যকর হবে, সেটি বড় প্রশ্ন।
ইতিহাস ফ্রান্সের পক্ষে
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফ্রান্স দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে—১৯৯৮ ও ২০১৮ সালে। এ ছাড়া ২০০৬ ও ২০২২ সালে রানার্সআপ হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে বড় টুর্নামেন্টে সফল হওয়ার কারণে তাদের অন্যতম ফেবারিট ধরা হচ্ছে।
ফ্রান্সের গল্প আসলে এমবাপ্পের গল্প
২০১৮ সালে তিনি ছিলেন বিস্ময়কর এক তরুণ। ২০২২ সালে তিনি ছিলেন দলের প্রাণ। ২০২৬ সালে তিনি পুরো প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। যদি এমবাপ্পে নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে খেলেন, তবে ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিততে পারে। কিন্তু যদি প্রতিপক্ষ তাঁকে থামানোর উপায় খুঁজে পায়, তাহলে ফুটবল–বিশ্ব বুঝতে পারবে—ফ্রান্স কি সত্যিই একটি পূর্ণাঙ্গ দল, নাকি তারা একজন অতিমানবীয় ফুটবলারের প্রতিভার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। সম্ভবত এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে ২০২৬ বিশ্বকাপে ফরাসিদের ভাগ্য।



