আসন্ন ৪৮ দলের ফিফা বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে এবার রেকর্ড সংখ্যক ১০টি দেশ অংশ নিতে যাচ্ছে। এই বিস্তৃত অংশগ্রহণকে আফ্রিকান ফুটবলের বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে একাধিক দল ও তারকা খেলোয়াড় বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন এবং শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন।
আফ্রিকান ফুটবলের উত্থান
এর আগে কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তোলে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের আসরে আফ্রিকান দেশগুলোর অংশগ্রহণ আরও বৈচিত্র্যময় হয়েছে। নতুন করে কেপ ভার্দে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে, আর দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৭৪ সালের পর আবারও বিশ্বকাপে ফিরেছে ডিআর কঙ্গো।
১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিবিসি স্পোর্টস আফ্রিকার সাতজন খেলোয়াড়কে নজর রাখার মতো তারকা হিসেবে নির্বাচন করেছে। এই খেলোয়াড়রা নিজ নিজ দেশের আশা ও সম্ভাবনার বড় প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। চলুন তাদের সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-
ওমর মারমুশ
মিশরের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রতিভাবান ফুটবলার ওমর মারমুশ গতি, ড্রিবলিং এবং গোল করার দক্ষতার জন্য পরিচিত। তিনি বর্তমানে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে উচ্চ পর্যায়ে খেলছেন এবং মিশরের আক্রমণভাগে মোহামেদ সালাহর সঙ্গে মিলিয়ে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তাকে ভবিষ্যতের আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তোয়ান সেমেনিয়ো
ঘানার জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড আন্তোয়ান সেমেনিয়ো লন্ডনে জন্মগ্রহণ করলেও ঘানার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলছেন। তিনি ক্লাব ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করে নিজের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। বড় ম্যাচে সিদ্ধান্তমূলক অবদান রাখার ক্ষমতার কারণে তাকে ঘানার আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রাহিম দিয়াজ
মরক্কোর তারকা ব্রাহিম দিয়াজ বর্তমানে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের একজন পরিচিত আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার। আফ্রিকা নেশনস কাপে তিনি ৫ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এবং মরক্কোকে ফাইনালে পৌঁছাতে বড় ভূমিকা রাখেন। ইউরোপের বিভিন্ন বড় লিগে শিরোপা জেতার অভিজ্ঞতাও তাকে আরও পরিণত খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ইয়ান ডিওমান্ডে
আইভরি কোস্টের তরুণ তারকা ইয়ান ডিওমান্ডে বর্তমানে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে দ্রুতই আলোচনায় উঠে এসেছেন। জার্মান বুন্দেসলিগার ক্লাব লাইপজিগে তিনি অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে দারুণ মৌসুম কাটিয়ে তিনি দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখেন এবং তরুণ প্রতিভা হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করেন।
রনওয়েন উইলিয়ামস
দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ও অধিনায়ক রনওয়েন উইলিয়ামস দলের সবচেয়ে বড় ভরসার নামের একটি। ২০১০ সালের পর আবার বিশ্বকাপে ফেরা দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য এবার নকআউট পর্বে যাওয়া। পেনাল্টি শুটআউটে তার অসাধারণ সেভ করার দক্ষতা তাকে আফ্রিকান ফুটবলে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
রোবার্তো ‘পিকো’ লোপেস
কেপ ভার্দের রক্ষণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রোবার্তো ‘পিকো’ লোপেস। তার ফুটবল যাত্রা বেশ ব্যতিক্রমী—ডাবলিনে জন্ম নেওয়া এই ডিফেন্ডার আয়ারল্যান্ডের ঘরোয়া ফুটবলে খেললেও পরে কেপ ভার্দের হয়ে জাতীয় দলে যোগ দেন। লিংকডইনের মাধ্যমে কোচের যোগাযোগ এবং পরবর্তীতে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার গল্প তাকে আরও অনন্য করে তুলেছে। তার নেতৃত্বে কেপ ভার্দে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকান ফুটবলে শক্তিশালী দল হিসেবে উঠে এসেছে।
ইসমাইলা সার
সেনেগালের দ্রুতগতির উইঙ্গার ইসমাইলা সার তার গতি ও আক্রমণভাগে ধারালো খেলায় পরিচিত। ক্লাব ও জাতীয় দল দুই জায়গাতেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২১ সালের আফ্রিকান নেশনস কাপ জয়ে তিনি সেনেগালের অন্যতম ভরসার খেলোয়াড় ছিলেন এবং পরবর্তী সময়েও বড় টুর্নামেন্টে দলের সাফল্যে অবদান রেখেছেন।



