প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজ। শনিবার (২৩ মে) এই ঘোষণা দেওয়া হয়। লিগের এক ম্যাচ বাকি থাকতেই তিনি অ্যাসিস্টের রেকর্ড স্পর্শ করেন এবং নিজের ক্লাবকে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে নিয়ে যান।
রেকর্ড স্পর্শ ও গোল
আর্সেনালের সাবেক স্ট্রাইকার থিয়েরি অঁরি এবং ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক প্লেমেকার কেভিন ডি ব্রুইনার যৌথভাবে গড়া এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২০টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড ছুঁয়েছেন এই পর্তুগিজ তারকা। অ্যাসিস্টের পাশাপাশি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে চলতি মৌসুমে ৮টি গোলও করেছেন ৩১ বছর বয়সী এই ফুটবলার। তার ওপর ভর করে লিগে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ইউনাইটেড।
মনোনয়ন তালিকা
এবারের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের মনোনয়ন তালিকায় ফার্নান্দেজের সঙ্গে আরও ছিলেন আর্সেনালের শিরোপাজয়ী ত্রয়ী গ্যাব্রিয়েল, ডেভিড রায়া ও ডেক্লান রাইস; ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ড ও অ্যান্টনিও সেমেনিও; নটিংহাম ফরেস্টের মিডফিল্ডার মরগান গিবস-হোয়াইট এবং ব্রেন্টফোর্ডের ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো।
সেরা প্লেমেকার
চলতি মৌসুমে লিগে সর্বোচ্চ ১৩২টি গোল করার সুযোগ (চান্স ক্রিয়েট) তৈরি করে নিজেকে প্রিমিয়ার লিগের সেরা প্লেমেকার হিসেবে প্রমাণ করেছেন ব্রুনো। এ তালিকায় ৮৯টি সুযোগ তৈরি করে দ্বিতীয় স্থানে আছেন লিভারপুলের ডমিনিক সোবোজলাই।
পূর্ববর্তী পুরস্কার
এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে ‘ফুটবল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর বর্ষসেরা পুরুষ খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ফার্নান্দেজ। পাশাপাশি ক্লাব পর্যায়ে পঞ্চমবারের মতো জিতে নেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মর্যাদাপূর্ণ ‘স্যার ম্যাট বাসবি প্লেয়ার অব দ্য সিজন’ পুরস্কার। রোববার (২৪ মে) লিগের শেষ ম্যাচে ব্রাইটনের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইউনাইটেড। সেই ম্যাচে আরও একটি অ্যাসিস্ট করতে পারলেই এককভাবে প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি।
সেরা তরুণ খেলোয়াড় ও’রাইলি
এদিকে এক দুর্দান্ত অভিষেক মৌসুম কাটিয়ে প্রিমিয়ার লিগের ‘ইয়ং প্লেয়ার অব দ্য সিজন’ (বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়) নির্বাচিত হয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির ২১ বছর বয়সী তারকা নিকো ও’রাইলি। ঘরোয়া ফুটবলে দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে আসন্ন বিশ্বকাপ দলে ইংল্যান্ডের স্কোয়াডেও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
ম্যানচেস্টার সিটির একাডেমি থেকে উঠে আসা ও’রাইলি চলতি মৌসুমে পেপ গার্দিওলার মূল একাদশে নিয়মিত জায়গা করে নেন। মূলত লেফটব্যাক পজিশনে খেললেও মাঝমাঠেও তাকে দেখা গেছে। পুরো মৌসুমে ৫টি গোলের পাশাপাশি ৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
চলতি মৌসুমে লিগে মোট ৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন ও’রাইলি, যার মধ্যে ২৯টিতেই ছিলেন শুরুর একাদশে। বড় ম্যাচগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ গোল করার সক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি, যার অন্যতম নজির লিগ কাপের ফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়ে তার জোড়া গোল।
পুরস্কার পাওয়ার পর অনুভূতি ব্যক্ত করে ও’রাইলি বলেন, ‘পুরস্কারটি জিততে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। গত মৌসুমে সিনিয়র ফুটবলে অভিষেকের পর আমি জানতাম যে, কঠোর পরিশ্রম করলে এ বছর আরও বেশি খেলার এবং দলকে সাহায্য করার সুযোগ পাব।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এতটা সময় মাঠে কাটাতে পারা এবং কোচ ও সতীর্থদের আস্থা অর্জন করতে পারাটাই এখন পর্যন্ত আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি আমার পরিবার এবং সিটির প্রত্যেকের কাছে কৃতজ্ঞ, কারণ তাদের ছাড়া এটি কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।’



