যশোরের অভয়নগর উপজেলায় সাড়ে পাঁচ ফুট উচ্চতার একটি বিশালদেহী ষাঁড়ের দেখা মিলেছে, যার নাম রাখা হয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার নেইমারের নামে। ষাঁড়টির মাথায় দুই শিংয়ের মাঝখানে কোঁকড়ানো চুল দেখতে নেইমারের মতো হওয়ায় এই নামকরণ। প্রায় ৩৫ মণ ওজনের ষাঁড়টির দাম হাঁকানো হচ্ছে ১২ লাখ টাকা।
দেখতে কেমন নেইমার
বিশালদেহী ষাঁড়টির শরীর কিছুটা বাদামী রঙের, আর মাথা, মুখ ও গলার সামনের অংশ সাদাটে। পা, পেট ও বাদামী রঙের শরীরে কয়েকটি সাদাটে স্ট্রাইপ রয়েছে। মাথার সামনের চুলের স্টাইল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার নেইমারের মতো। এ কারণেই শখ করে মালিক দেবু পাঁড়ে ষাঁড়টির নাম রেখেছেন ‘নেইমার’।
নেইমারকে দেখতে ভিড়
নেইমারকে দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আসছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন। ষাঁড়টির মালিক যশোরের অভয়নগর উপজেলার ডাঙামশিয়াহাটি গ্রামের দেবু পাঁড়ে (৩৩) বলেন, ছোটবেলা থেকে পশু পালনের প্রতি আগ্রহ ছিল। পড়াশোনা শেষ করে ২০২২ সাল থেকে পারিবারিক খামার গড়ে তোলেন। বর্তমানে তার খামারে ৬টি গরু আছে, যার মধ্যে দুটি ষাঁড়।
নেইমারের খাদ্যতালিকা ও যত্ন
নেইমারের খাদ্য তালিকায় রয়েছে খৈল, ভুষি, খড়, ভুট্টার গুড়া, সামান্য ভাত ও সবুজ ঘাস। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকার খাবার ও তিনবার গোসল করাতে হয়। দেবু বলেন, ‘তিন বছরের বেশি সময় ধরে ভালোবাসা ও শ্রম দিয়ে নিজের ছেলের মতো লালন-পালন করছি নেইমারকে। উঁচু দেহ, আকর্ষণীয় শারীরিক গঠন ও মাথার সামনের চুলের বিশেষ স্টাইলের কারণে ‘ফেলেক্স ভি জাতের’ এই গরুটি সহজেই অন্য যেকোনো গরু থেকে আলাদা।’
বিক্রির পরিকল্পনা
অনেকেই গরুটি কেনার জন্য দাম জানতে চেয়েছেন। ভালো দাম না পাওয়ায় এখনও বিক্রি করা হয়নি। দেবু বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস ঈদের আগেই ষাঁড়টি বিক্রি হবে। আমি ১২ লাখ টাকা হলে ছেড়ে দেব।’ রোববার সকালে দেখা যায়, বাড়ির পশ্চিম পাশে টিনের তৈরি গোয়াল ঘরের পাশে ছাদ দেওয়া একটি প্রশস্ত কক্ষে নেইমার একাই থাকে। ষাঁড়টির গলায় কোনো দড়ি না থাকায় মাঝে মাঝে ঘর থেকে উঠানে বেরিয়ে পায়চারি করে ও খাবার খায়।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
প্রতিবেশী অমিও ধর বলেন, পরম মমতা ও যত্নে দেবু ষাঁড়টিকে বড় করেছেন। বিক্রি হবে জেনে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে দেখতে আসছেন। দেবুর মা ইতি পাড়ে বলেন, ‘গরুটি আমাদের পরিবারের একজন সদস্য হয়ে উঠেছে। বিক্রির কথা উঠতেই খারাপ লাগছে। কিন্তু আর্থিক প্রয়োজনে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার মতামত
অভয়নগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ষাঁড়টিকে আমি দেখতে গিয়েছিলাম। আদর করে ওরা নেইমার বলে ডাকে। বিশালাকৃতি হলেও ওজন মাপা হয়নি। সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পরিবেশে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে দেবু ও তার পরিবার নেইমারকে বড় করে তুলেছেন। আশা করছি বিক্রি করে তিনি উপযুক্ত মূল্য পাবেন।’



