“কারিনাকে আর আমরা পাব না...” — ভারী কণ্ঠে কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন দেশের ফুটবলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ও সাবেক জাতীয় অধিনায়ক কায়সার হামিদ। একমাত্র আদরের কন্যাসন্তান কারিনা কায়সার–কে হারিয়ে এখন বুকফাটা হাহাকারে দিন কাটছে এই তারকার। সদ্যপ্রয়াত মেয়ের ঘরের প্রতিটি কোণ, তার পছন্দের পুতুল আর দেওয়ালে টাঙানো ছবিগুলো হাতড়ে বেড়াচ্ছেন আর ডুকরে কেঁদে উঠছেন এক অসহায় পিতা।
কারিনার শেষ মুহূর্ত
গত শুক্রবার দিবাগত রাতে আকস্মিকভাবেই চিরবিদায় নেন কারিনা কায়সার। কায়সার হামিদ জানান, আনুমানিক রাত ১১টা থেকে সোয়া ১১টার দিকে কারিনা তাদের ছেড়ে চলে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর জন্য শেষ চেষ্টা করেছিলেন। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টা থেকে পৌনে ১টার দিকে চিকিৎসকেরা জানান, কারিনা আর নেই।
পরিবারের বেদনা
মেয়ের আকস্মিক এই চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না পরিবার। নিজের ঘরের প্রবেশদ্বারের নেমপ্লেটটি দেখিয়ে কায়সার হামিদ অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, “আমাদের বাসায় ঢোকার সময়ই এই যে নামটা—‘Lopa Kaiser live here with Karina, Mostafa and Sadat’। কারিনা আজকে আমাদের মাঝে নাই।”
কারিনাকে বাঁচাতে তার দুই ভাই নিজেদের লিভার পর্যন্ত ডোনেট করার জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর সেই সুযোগ বা ভাগ্য হলো না পরিবারের। ঘরের দেওয়ালে ফ্রেমবন্দি হয়ে আছে ভাইবোনদের সেই হাসিমুখের ছবি, যা এখন শুধুই দীর্ঘশ্বাস বাড়ায়।
স্মৃতির ভাণ্ডার
কারিনার ঘরে এখন কেবলই পড়ে আছে তার অজস্র স্মৃতি। পুরো ঘরজুড়ে সাজানো রয়েছে তার শখের পুতুলের সংগ্রহ। দক্ষিণ কোরিয়া–তে South Asian Games–এ অংশ নিতে গিয়ে মেয়ের জন্য পরম যত্নে কায়সার হামিদের কিনে আনা সেই উপহারগুলো এখন শুধুই নির্বাক স্মারক।
শেষ বিদায়
কারিনার সঙ্গে চেন্নাই যেতে পারেননি কায়সার হামিদ। দুই পুত্র ও স্ত্রী গিয়েছিলেন কারিনার সঙ্গে। কন্যার মৃত্যুর খবর শুনে একা একা অঝোরে কাঁদছেন তিনি। মেয়ের রুমের প্রতিটি ছোট ছোট জিনিস হাতড়ে নিভৃতে কাঁদতে কাঁদতেই ফেসবুকে ভিডিওটি শেয়ার করেন এই ফুটবল তারকা।
মাঠ কাঁপানো যে ফুটবলারকে একসময় পুরো দেশ বীরের বেশে দেখেছে, আজ নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে তিনি একজন কন্যাসন্তান হারানো শোকার্ত, বিপর্যস্ত পিতা। কারিনার এই অকাল প্রয়াণে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গন, ক্রীড়াঙ্গনসহ সর্বস্তরে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



