সরকার টাকা ছাপাচ্ছে বলে যে প্রচার চলছে তা সম্পূর্ণ গালগল্প এবং বাস্তবতার সাথে এর কোনো মিল নেই। বর্তমান সরকার বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বন্ধ কলকারখানা চালুর জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিগত সময়ে ঘরে, ব্যবসায় এবং সরকারি আয়ে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছিল। সেই আয়ের টান এতটাই ব্যাপক ছিল যে নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেকেই দারিদ্রসীমার নিচে চলে যায়, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক। এর ফলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তসহ সমাজে ব্যাপক ভাঙন ধরেছে।
অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে সরকারের অঙ্গীকার
সেই সময় ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় পুঁজি পায়নি। পতিত সরকার প্রতি মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করত এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কয়েকটি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার কোনো সিন্ডিকেটের কাছে কোনো খাত ইজারা দিতে চায় না; বরং অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চায়। বিগত সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে লুটপাট করেছে এবং ধমকা-ধমকির মাধ্যমে তথ্য জালিয়াতি করে উন্নয়ন দেখিয়েছে। বর্তমান সরকার পরিসংখ্যান ব্যুরোর সকল তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্য
শনিবার (১৬ মে) এফডিসিতে আসন্ন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যানের বক্তব্য
সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলেছে। বিশ্ববাজারে পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি আমদানি খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ায় পরিবহন, কৃষি ও উৎপাদন খরচ বেড়েছে, যা দ্রব্যমূল্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে সীমিত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।
বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ
এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবারের বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া এবারের বাজেটে সরকারকে জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য, রপ্তানি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকির ওপর নজর দিতে হচ্ছে। তবে বাজেট যাতে জনভোগান্তি না বাড়ায়, নিম্ন-মধ্যবিত্তের ওপর চাপ তৈরি না করে এবং ব্যবসায়িক অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি
সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এবারের বাজেটে অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামলাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পথে হাঁটছে বর্তমান সরকার। সুবিধাভোগী নির্বাচন ও এর অর্থায়ন নিয়ে কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করলেও, সরকারের স্বদিচ্ছা থাকলে এই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড সঠিকভাবে সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানো গেলে এটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর হবে এবং এতে ঋণের বোঝা বাড়ার কোনো শঙ্কা নেই।
প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদের ফলাফল
“মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে এবারের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (নিটার) এর বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম ও সাংবাদিক গোলাম কাদির রবু। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।



