চতুর্থ দিনের খেলা শেষে মাঠ ছাড়ছেন মুশফিক ও নাজমুল। শামসুল হক খেলা বন্ধ থাকল ৩ ঘণ্টা ৫ মিনিট, অর্থাৎ পুরো এক সেশনের বেশি সময়। মধ্যাহ্নবিরতির মধ্যে আসা বৃষ্টি থেমে খেলা আবার শুরু হতে হতে বেলা ৩টা ৪৫ মিনিট। মাঝে প্রবল বর্ষণে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রায় ডুবুডুবু অবস্থা। গ্যালারি আর মিডিয়া প্লাজার প্যাসেজে দর্শকদের অনেকেই মনের আনন্দে বৃষ্টিতে ভিজেছেন। আসলে সেই পরিস্থিতি থেকে যে আবার দিনের খেলা শুরু হতে পারে, এটা ভাবাই তখন কঠিন ছিল।
খেলা পুনরায় শুরু ও পানিনিষ্কাশন
কিন্তু খেলা আবার ঠিকই শুরু হয়েছে, ঝলমলে রোদে হেসেছে শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। দুর্দান্ত পানিনিষ্কাশন–ব্যবস্থার সুবাদে যথারীতি মাঠও প্রস্তুত হয়। তবে বর্ধিত সময় পর্যন্ত যেতে পারেনি দিনের খেলা, দেড় ঘণ্টা খেলা হওয়ার পরই আলোকস্বল্পতায় দিনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। সে পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০.৩ ওভার ব্যাট করে ৩ উইকেটে ১৫২ রান তুলেছে বাংলাদেশ দল। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসের ৩৮৬ রান থেকে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে ১৭৯ রানে।
বৃষ্টি বাধা ও টপ অর্ডারের ব্যর্থতা
দিনের খেলায় বাধা সেধেছিল বৃষ্টি। শামসুল হক ৪০.৪ ওভারের দিনটা যে কার, সেটি ওই বৃষ্টি–বাধার কারণেই নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা হয়েছে হোঁচট খেয়ে। আগের দিন শেষ বিকেলে করা ৭ রান নিয়ে খেলতে নেমে আজ দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান আর সাদমান ইসলামকে হারাতে হয় দলীয় ২৩ রানের মধ্যে।
৫ রান করে মাহমুদুল এলবিডব্লু হয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাসের বলে, আর সাদমান ১০ রান করে হাসান আলীর বাড়তি বাউন্স পাওয়া বলে গালিতে সৌদ শাকিলকে ক্যাচ দেন। তবে দিনের প্রথম ঘণ্টার ধাক্কা দুটিকে ‘ভূমিকম্পে’ রূপ নিতে দেননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ও মুমিনুল হক।
নাজমুল-মুমিনুলের জুটি
প্রথম ইনিংসেও ৩১ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর নাজমুল–মুমিনুলই ১৭০ রানের জুটি গড়ে পথ দেখিয়েছিলেন। নাজমুল তো সেঞ্চুরিই (১০১) করলেন, মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে ৯১। দ্বিতীয় ইনিংসেও একই দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে। উইকেটে বল মাঝেমধ্যেই বাড়তি টার্ন–বাউন্স পেয়েছে। তার মধ্যেও তৃতীয় উইকেট জুটিতে দুজনে গড়েছেন বিপর্যয় এড়ানো ১০৫ রানের জুটি।
দিনের প্রথম ঘণ্টায় হোঁচট খাওয়ার পর আর কোনো উইকেট পড়তে না দিয়ে নাজমুল–মুমিনুল জুটি মধ্যাহ্নবিরতিতে যায় দলকে ৯৩ রানে রেখে, বাংলাদেশের লিড তখনই ১২০ রানের। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের পরিসংখ্যান মাথায় রাখলে বাংলাদেশ ভালো একটা অবস্থানে যাওয়ার ভিতও বলা যায় সেটাকে।
মুমিনুলের আক্ষেপ ও মাইলফলক
তৃতীয় দিন শেষে মেহেদী হাসান মিরাজ বলে গিয়েছিলেন, এই ইনিংসে তাঁদের লক্ষ্য থাকবে ২৯০–৩০০ রান করা। ওদিকে মিরপুরের অতীত বলছে, চতুর্থ ইনিংসে এ মাঠের উইকেটে কোনো দল ২০৯ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি। ২০১০ সালে সেটি করেছিল ইংল্যান্ড। মিরপুরে ১৫০–এর বেশি রান তাড়া করে জেতার ঘটনাও আছে একটিই। ২০০৮ সালে চতুর্থ ইনিংসে ২০৫ রান তাড়া করে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
শুরুতে ২ উইকেট হারালেও বৃষ্টির বাধার দিনে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যের দিকে খুব একটা খারাপ এগোয়নি বাংলাদেশ। তবে আক্ষেপ থাকছে মুমিনুল হকের জন্য। ব্যক্তিগত ২ রানে মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং ৪৩ রানে আবদুল্লাহ ফজল দুবার তাঁর ক্যাচ ফেলেন। দুই দফা নতুন জীবন পেয়েও মাত্র ৫৬ রানে থেমেছে ১২০ বল খেলা মুমিনুলের ইনিংস। ৪৩তম ওভারে শাহিন আফ্রিদির বলে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগে ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে। তার আগে টেস্টে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ৫ হাজার রানের দেখা পান মুমিনুল।
ফিফটি করেও সেঞ্চুরির দেখা না পাওয়া ইনিংসের তালিকাটা আরও বাড়ল মুমিনুলের। তাঁকে নিয়ে প্রথম ইনিংসে দেওয়া তথ্যটাই একটু ‘আপডেট’ করে দিতে হচ্ছে নতুন করে। টেস্টে এ নিয়ে ৪০ ইনিংসে পঞ্চাশ ছুঁয়েও তিন অঙ্কে যেতে পেরেছেন মাত্র ১৩ বার, বাকি ২৭টি ইনিংস সন্তুষ্ট থেকেছেন ফিফটিতে। শুধু তা–ই নয়, চলমান মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসসহ টানা পাঁচ ইনিংসে ফিফটি করেও সেঞ্চুরির দেখা পেলেন না মুমিনুল। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এই ‘কীর্তি’ তাঁর আগে ছিল শুধু সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের।
শেষ দিনের সম্ভাবনা
দিনের শেষভাগে মুমিনুলের আউটটাই যা একটু অতৃপ্তি। নইলে বৃষ্টিতে খেয়ে নেওয়া দিনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতেই ছিল। নাজমুল দিন শেষে অপরাজিত আছেন ১০৫ বলে ৫৮ রান নিয়ে, সঙ্গে ১৬ রানে অপরাজিত প্রথম ইনিংসে ৭১ রান করা মুশফিকুর রহিম।
চতুর্থ দিন শেষে মিরপুর টেস্টটা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, তাতে কাল শেষ দিনটা হয়ে উঠতে পারে রোমাঞ্চকর। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকায় সে সম্ভাবনা বাড়ছে আরও।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৪১৩ ও ৫০.৩ ওভারে ১৫২/৩ (নাজমুল ৫৮*, মুমিনুল ৫৬, মুশফিক ১৬ ; হাসান ১/২৩, আব্বাস ১/৩৫, শাহিন ১/৩৯ )। পাকিস্তান : ৩৮৬। — চতুর্থ দিন শেষে।



