দেশের বাইরে খেলতে গিয়ে বিভিন্ন দাবা একাডেমি দেখে তখন থেকেই স্বপ্ন ছিল কিছু একটা করার। খেলোয়াড় থেকে সংগঠক হয়ে মাহমুদা হক মলির হাত ধরে ২০১৫ সালে শুরু হয় এলিগ্যান্ট চেস একাডেমির পথচলা। সেই স্বপ্ন পূরণের ১০ বছর না পেরোতেই এসেছে বড় স্বীকৃতি। আন্তর্জাতিক দাবা সংস্থা ফিদে বিশ্বের ৩৭তম দাবা একাডেমি হিসেবে এলিগ্যান্ট চেস একাডেমিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিছুদিন আগে একাডেমিটি ফিদের কাছ থেকে সনদও পেয়েছে।
একাডেমির বর্তমান কার্যক্রম
শুরুর দিকে বসুন্ধরা, ধানমন্ডি ও উত্তরায় একাডেমির কার্যক্রম চালু ছিল। তবে কোভিডের পর এখন শুধু উত্তরাতেই কার্যক্রম চলছে। সেখানে একটি দোতলা বাড়িতে চারটি গ্রুপে উদীয়মান দাবাড়ুদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। একাডেমিতে বয়সের কোনও সীমা নেই। চার বছর থেকে যেকোনো বয়সী মানুষ দাবা শিখতে পারেন। ন্যূনতম ফি দিয়ে পরিচালিত হয় এই কার্যক্রম।
একাডেমির সাফল্য ও তারকা দাবাড়ু
১০ বছরের পথচলায় এলিগ্যান্ট চেস একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন দুই তারকা দাবাড়ু মনন রেজা নীড় ও নোশিন আঞ্জুম। এ ছাড়া একাডেমির আরও কয়েকজন দাবাড়ু জাতীয় পর্যায়ে খেলছেন। স্থানীয় ফিদে কোচ থেকে শুরু করে গ্র্যান্ডমাস্টাররাও এখানে প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতা
একাডেমিটি শুধু দাবাড়ুদের প্রশিক্ষণই দেয় না, অংশ নেয় প্রথম বিভাগ দাবা লিগেও। এ ছাড়া নিয়মিত রেটিং দাবার আয়োজনের পাশাপাশি একবার গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার আয়োজনও করেছিল তারা।
ফিদের শর্ত পূরণ ও স্বীকৃতি
ফিদের সব শর্ত পূরণের পরই এসেছে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। একাডেমিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদা হক মলি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার অনেক বড় স্বপ্ন ছিল দেশে একটি দাবা একাডেমি গড়ব। সেটি আগেই করতে পেরেছি। এখন দীর্ঘ পথচলার পর ফিদের স্বীকৃতি পেয়েছি। এটা অনেক আনন্দের। বাংলাদেশের একটি একাডেমি বিশ্বের ৫০টির মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। এটা সহজ ছিল না। অনেক শর্ত পূরণের পর আমরা এই সনদ পেয়েছি।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শুরুর দিকে একাডেমির কয়েকটি শাখা থাকলেও এখন শুধু একটি শাখা চালু আছে। এ বিষয়ে মলি বলেন, ‘কোভিডের পর অন্য শাখাগুলো বন্ধ করতে হয়েছে। ব্যয় বেশি ছিল, দেখাশোনার বিষয়ও ছিল। তবে উত্তরায় যাতায়াত সহজ হওয়ায় সেখানে বড় পরিসরে কোচিং করানো হচ্ছে। প্রয়োজনে গ্র্যান্ডমাস্টাররাও ক্লাস নিচ্ছেন। নীড়-নোশিনরা তো আমাদের একাডেমি থেকেই বেরিয়ে এসেছে। আমাদের ইচ্ছা, এটি আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া, যেন দেশের হয়ে আরও অনেক দাবাড়ু উঠে আসতে পারে।’



