পুলিশের মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নে জরুরি মেডিক্যাল দল চট্টগ্রামে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ শনিবার সন্ধ্যায় দলটির সদস্যরা নগরের বহদ্দারহাটের ফরিদাপাড়া এলাকায় নাঈমের বাসায় যান।
বিসিবির মেডিক্যাল টিমের কার্যক্রম
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবালের নির্দেশনায় একজন চিকিৎসক ও একজন ফিজিওকে নিয়ে গঠিত বিশেষ মেডিক্যাল দল আজ দুপুরে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। দলের সদস্যরা নাঈম হাসানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর শারীরিক অবস্থা, সম্ভাব্য আঘাত এবং খেলোয়াড়ি সক্ষমতার ওপর ঘটনার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করেন।
মেডিক্যাল দল আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিসিবি সভাপতির কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদনে নাঈমের শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চিকিৎসা, বিশ্রাম এবং মাঠে ফেরার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ থাকবে।
নাঈমের মানসিক অবস্থা
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাঈমের বড় ভাই কামরুল আলম আজ রাতে প্রথম আলোকে বলেন, চিকিৎসক ও ফিজিও নিয়ে গঠিত মেডিক্যাল দলের সদস্যরা নাঈমের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাঁরা আপাতত নাঈমকে একা না থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, তিনি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত।
পুলিশের মারধরের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাঈম হাসান। আজ সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে বাসায় ফেরার পথে গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নাঈমকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরে তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়েও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শুক্রবার রাতে থানায় সাংবাদিকদের নাঈম বলেন, রাতের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামার পর অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ অটোরিকশাটি থামায়। এরপর চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেয়। পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল তাঁকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন নাঈম। একপর্যায়ে তাঁকে একটি অটোরিকশায় করে থানায় নেওয়া হয়। সেখানেও তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বিসিবি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান নাঈম।
পুলিশের ব্যবস্থা
ঘটনায় খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতেই তাঁদের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত পুলিশের সোর্স সোহেলকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।



