পর্তুগাল কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে নকআউট পর্বের টিকিট কেটেছে। এই এক ড্রতেই বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর স্বপ্ন ভেঙে গেছে। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে লিওনেল মেসি বনাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ‘লাস্ট ড্যান্স’ দেখার আশা জাগলেও এখন সেটি আর হচ্ছে না।
কেন ভেস্তে গেল সেই লড়াই?
‘কে’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে কলম্বিয়া শেষ ৩২-এ মুখোমুখি হবে ঘানার। কিন্তু কলম্বিয়ার জায়গায় যদি পর্তুগাল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারত, তবে ইন্টারনেট দুনিয়ায় সুনামি বয়ে যেত। হিসাবটা ছিল সহজ—আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল যার যার গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হলেই কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হতেন মেসি ও রোনালদো।
মেসির রেকর্ড ও পর্তুগালের ব্যর্থতা
নিজেদের ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত ৩৬টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছেন এই দুই কিংবদন্তি। যার মধ্যে ১৬টি ম্যাচে জিতেছেন মেসি, গোল করেছেন ২২টি। বিপরীতে রোনালদো জিতেছেন ১১টি ম্যাচে, তাঁর গোলসংখ্যা ২১। ২০২৬ বিশ্বকাপে ফুটবল বিধাতা যেন তাঁদের শেষ লড়াইয়ের মঞ্চ সাজিয়েছিলেন। প্রথম দুই সপ্তাহ সব ঠিকঠাক এগোচ্ছিল। আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগকে নাচিয়ে একাই ৫ গোল করে আর্জেন্টিনাকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে তোলেন মেসি। শনিবার জর্ডানের বিপক্ষে নামার আগেই আলবিসেলেস্তেদের শীর্ষস্থান নিশ্চিত ছিল। এই ম্যাচে আরও একটি গোল করে মেসি গড়েন বিশ্ব রেকর্ড—টানা সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার। কিন্তু এর আগেই মায়ামির ম্যাচে সব ভেস্তে দেয় পর্তুগাল। কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে তারা গ্রুপে দ্বিতীয় হয়। ফলে নকআউট পর্বের সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পুলে চলে যায় পর্তুগাল। শেষ ৩২-এ তাদের লড়তে হবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। সেই বাধা টপকালে শেষ ১৬-তে দেখা হতে পারে স্পেনের সঙ্গে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল কেপ ভার্দে।
এখন কী সম্ভাবনা?
মেসি ও রোনালদো এখন খেলছেন ভিন্ন দুই মহাদেশে। ২০৩০ সালের আগামী বিশ্বকাপে তাঁদের খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ফলে, ফুটবল মঞ্চের সবচেয়ে বড় আঙিনায় তাঁদের শেষবারের মতো মুখোমুখি দেখার আশা এখন অনেক ক্ষীণ। তবে একেবারে শেষ হয়নি। এখন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর শেষ দেখার একমাত্র সমীকরণ—যদি পর্তুগাল আর আর্জেন্টিনা একেবারে বিশ্বকাপের ফাইনালে গিয়ে মুখোমুখি হয়! দুই দলের জন্যই সেটা অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু ফুটবল কি সব সময় রূপকথার নিয়মে চলে?



