২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’ শুরু থেকেই ‘গ্রুপ অব ডেথ’ হিসেবে বিবেচিত। সেই গ্রুপে বুধবার (১৭ জুন) মুখোমুখি হচ্ছে ইরাক ও নরওয়ে। শক্তি, স্কোয়াড গভীরতা এবং সাম্প্রতিক ফর্ম সব দিক থেকেই নরওয়ে এই ম্যাচে স্পষ্ট ফেভারিট। তবে বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে অঘটনের সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে, আর ইরাক সেই সুযোগই খুঁজবে।
ম্যাচের সময় ও স্থান
বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরের জিলেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।
নরওয়ের শক্তি
নরওয়ের আক্রমণভাগের কেন্দ্রবিন্দু আর্লিং হলান্ড, যিনি বাছাইপর্বে ১৬ গোল করেছেন এবং জাতীয় দলের হয়ে ৫০ ম্যাচে ৫৫ গোলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড ধরে রেখেছেন। হলান্ডের সঙ্গে নরওয়ের মাঝমাঠে আছেন মার্টিন ওডেগার্ড, যিনি সুযোগ তৈরির মূল কারিগর। তার পাসিং, ভিশন এবং অ্যাসিস্ট করার ক্ষমতা নরওয়ের আক্রমণকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। এছাড়া আলেকজান্ডার সোরলথ, আন্তোনিও নুসা ও অস্কার ববের মতো খেলোয়াড়রা নরওয়েকে আক্রমণে বহুমাত্রিকতা দিয়েছে। সবমিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আক্রমণভিত্তিক দল হিসেবেই বিশ্বকাপে এসেছে নরওয়ে।
ইরাকের পথ
অন্যদিকে, ইরাক এসেছে দীর্ঘ ও কঠিন পথ পেরিয়ে। তারা বাছাইপর্বে খেলেছে সর্বোচ্চ ২১টি ম্যাচ, যা অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। শেষ পর্যন্ত ইন্টার কনফেডারেশন প্লে অফে বলিভিয়াকে ২–১ ব্যবধানে হারিয়ে তারা বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়। ইরাকের জন্য এটি মাত্র দ্বিতীয় বিশ্বকাপ; এর আগে তারা খেলেছিল ১৯৮৬ সালে। ইরাকের প্রধান ভরসা তাদের অভিজ্ঞ কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড, যিনি ২০২২ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে শেষ ষোলো পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন। তার রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা এবং কৌশলগত পরিকল্পনা বড় দলগুলোর বিপক্ষে ইরাককে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখতে পারে। তবে হলান্ড ও ওডেগার্ডের জুটিকে থামানো তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
প্রশ্ন ও সম্ভাবনা
এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই: ইরাক কি নরওয়ের ভয়ংকর আক্রমণ সামলাতে পারবে? নাকি হলান্ডের গতি ও শক্তির সামনে ভেঙে পড়বে তাদের রক্ষণ? এই দুই দল এর আগে কখনো মুখোমুখি হয়নি, তাই এটি হবে তাদের প্রথম আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎ। ম্যাচের ফল নির্ভর করবে ইরাক কতটা সময় নরওয়েকে আটকে রাখতে পারে এবং কাউন্টার অ্যাটাকে কতটা কার্যকর হতে পারে তার ওপর।



