বিশ্বের সেরা দুই ফরোয়ার্ড জুটির লড়াইয়ে জয় ফ্রান্সের
যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক উত্তেজনাপূর্ণ প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। এই জয়ের মাধ্যমে ফরাসি দল তাদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে, অন্যদিকে ব্রাজিলের জন্য ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পর নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ফ্রান্সকে হারাতে না পারার আক্ষেপ আরও গভীর হয়েছে। ম্যাচটি ছিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই ফরোয়ার্ড জুটির মুখোমুখি লড়াই, যেখানে শেষ হাসি হেসেছে ফরাসিরা।
গোল ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স
ম্যাচে ফ্রান্সের হয়ে জালের দেখা পেয়েছেন তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অন্যদিকে, ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ব্রেমার, যা দলের জন্য সামান্য সান্ত্বনা বয়ে এনেছে। তবে ব্রাজিলের দুর্ভাগ্য ছিল যে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গোলখরায় ভুগেছেন এবং রাফিনিয়া চোটের কারণে মাত্র ৪৫ মিনিট খেলেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
ম্যাচের শেষ ৪০ মিনিট ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেললেও ব্রাজিল ফ্রান্সের শক্তিশালী রক্ষণব্যুহ ভাঙতে ব্যর্থ হয়, যা তাদের আক্রমণাত্মক দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। এই পরিস্থিতি দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, বিশেষ করে বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতির এই পর্যায়ে।
কোচ আনচেলত্তির মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ফলাফল নিয়ে কিছুটা হতাশ হলেও তিনি দলের লড়াকু মানসিকতায় খুশি। আনচেলত্তি বলেন, 'ম্যাচ হারলে কেউই খুশি হয় না। তাই বলতে পারেন, এই ফলে আমি অর্ধেক সন্তুষ্ট। সামনে এখনো দীর্ঘ পথ, তবে ইতিবাচক থাকার মতো কারণও আছে। আমার খেলোয়াড়েরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছেন এবং আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা রাখি।'
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়া কাঙ্ক্ষিত গোল না পেলেও কোচ তাদের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন না। সমালোচকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রাফিনিয়ার মুভমেন্ট ভালো ছিল এবং চোটের কারণে তাকে তুলে নিতে হয়েছে। অন্যদিকে, ভিনিসিয়ুসকে প্রতিপক্ষের জন্য সবসময়ই বিপজ্জনক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
গ্যালারি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
গ্যালারি থেকে নেইমারকে নিয়ে সমর্থকদের স্লোগানের বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে আনচেলত্তি বলেন, এখন দলে যারা আছেন, তাদের পারফরম্যান্সেই সবার মনোযোগ দেওয়া উচিত। বিশ্বকাপের আগে চূড়ান্ত স্কোয়াড বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই ম্যাচটি বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড।
ইগর থিয়াগো, দানিলো, গ্যাব্রিয়েল সারা ও ইবানেজদের মতো নতুনদের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, বিশ্বকাপের দল গঠন করা এখন তার জন্য বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি সারতে ১ এপ্রিল ভোরে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে জয় দিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াই এখন আনচেলত্তির মূল লক্ষ্য, যা দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হতে পারে।



