ব্রাজিলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নাজুক, ১০ জনের ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে পরাজয়
ব্রাজিলের হারের ধারা, ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে পরাজয়

বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে ব্রাজিলের ধাক্কা: ১০ জনের ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে পরাজয়

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আয়োজিত একটি প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল ফুটবল দল ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, ফ্রান্স দলটি দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেললেও ব্রাজিল তাদের সংখ্যাগত সুবিধাকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরাজয়ের মাধ্যমে ব্রাজিলের শেষ চারটি ম্যাচে জয়ের সংখ্যা মাত্র একটিতে আটকে রয়েছে, যা বিশ্বকাপের আগে তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমবাপ্পের গোলে ফ্রান্সের এগিয়ে যাওয়া

ম্যাচের ৩০তম মিনিটের কিছু পরে ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে একটি চমৎকার চিপ শটের মাধ্যমে ব্রাজিলের গোলরক্ষক এদারসনকে পরাজিত করে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন। এই গোলটি এমবাপ্পের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৫৬তম গোল, যা তাকে ফ্রান্সের সর্বকালীন সর্বোচ্চ গোলদাতা অলিভিয়ে জিরুর রেকর্ডের মাত্র এক গোলের দূরত্বে নিয়ে এসেছে। ২৭ বছর বয়সী এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা হাঁটুর চোট থেকে ফিরে এসে এই গোলটি করেছেন, যা কোচ দিদিয়ে দেশঁকে বিশেষভাবে আনন্দিত করেছে।

লাল কার্ডের পরও ফ্রান্সের জোরালো প্রতিরোধ

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফ্রান্সের ডিফেন্ডার ডায়ট উপামেকানো একটি লাল কার্ড দেখেন। ভিএআর পর্যালোচনায় আমেরিকান রেফারি গুইদো গনজালেস এই সিদ্ধান্ত নেন, কারণ উপামেকানো ব্রাজিলের ওয়েসলিকে ফেলে একটি স্পষ্ট গোলের সুযোগ নষ্ট করেছিলেন। তবে ১০ জনের ফ্রান্স দল মাথা নত না করে বরং আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। লাল কার্ডের মাত্র ১০ মিনিট পর, ৬৫তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে লিভারপুলের স্ট্রাইকার উগো একিতি এদারসনের গায়ের পাশ দিয়ে বল পাঠিয়ে ফ্রান্সের ব্যবধান দ্বিগুণ করে ২-০ করেন। এটি একিতির দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক গোল ছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্রাজিলের দেরিতে গোল ও শেষ প্রচেষ্টা

ব্রাজিল ৭৮তম মিনিটে লুইজ হেনরিকের সহায়তায় জুভেন্তাস ডিফেন্ডার গ্লেসন ব্রেমার একটি গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন। তবে ফ্রান্স দল শেষ পর্যন্ত তাদের লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয় এবং ম্যাচটি জয়ের মাধ্যমে শেষ করে। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি দলের এমন পারফর্ম্যান্সে নিশ্চয়ই হতাশ, বিশেষ করে যখন দলটি অনেক মূল খেলোয়াড় ছাড়াই মাঠে নেমেছিল। আলিসন, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, এদার মিলিতাও, ব্রুনো গিমারেস, রদ্রিগো ও এস্তেভাওয়ের মতো তারকারা অনুপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের চ্যালেঞ্জ

এই পরাজয় ব্রাজিলের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করেছে। দলটি ১০ জনের দলের বিপক্ষে সংখ্যাগত আধিক্য থাকা সত্ত্বেও জয়ী হতে পারেনি, যা তাদের টিমওয়ার্ক ও কৌশলগত দুর্বলতা নির্দেশ করে। বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলকে অবশ্যই এই জায়গায় উন্নতি করতে হবে, নতুবা প্রতিযোগিতায় তাদের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। এদিকে, এমবাপ্পে রোববার কলম্বিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে জিরুর রেকর্ড ভাঙার সুযোগ পাবেন, যা ফ্রান্সের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হতে পারে।