ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই ৩ গোল হজম করল বাংলাদেশ
বৃহস্পতিবার হ্যানয়ের হ্যাং ডে স্টেডিয়ামে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে থাকা ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই ৩ গোল হজম করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। স্বাগতিকদের মাঠে বিরতির আগেই এই তিন গোল হজম করে ড্রেসিংরুমে ফিরেছে হাভিয়ের কাবরেরার দল। ম্যাচের শুরু থেকেই ভিয়েতনামের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো, যা তাদের র্যাঙ্কিং এগিয়ে থাকার কারণ স্পষ্ট করে দিয়েছে।
প্রথমার্ধের গোলগুলোর বিস্তারিত বিবরণ
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ভিয়েতনাম এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে দো হোয়াং হেনের পায়ে বল তুলে দেন তারিক কাজী, তবে সাদ উদ্দিন স্লাইড করে শট ব্লক করে বিপজ্জনক অবস্থা এড়ান। অষ্টম মিনিটে প্রথম গোল আসে ভিয়েতনামের পক্ষে। কর্নার থেকে আসা বলে পা ছোঁয়ান ফাম তুয়ান হাই, তার শট জায়ানের পায়ে লেগে পোস্টে জড়িয়ে যায়।
১৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে হোয়াং হেনের কোনাকুনি শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক শ্রাবণ। পরের মুহূর্তেই হোয়াং দুয়ের দুর্দান্ত ভলি ফিস্ট করে দলকে রক্ষা করেন তিনি। তবে দুই মিনিট পরই দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। রক্ষণভাগের ভুলে সতীর্থের নেওয়া লম্বা ফ্রি-কিকে ফাম জুয়ান মানের হেড জালে জড়ায়, বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের অফসাইড ফাঁদ ভেঙে এই গোলটি করেন ভিয়েতনাম ফরোয়ার্ড।
বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া ও ভিয়েতনামের চাপ
দুই গোল হজমের পর কিছুটা খোলস ছেড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। ২০ মিনিটে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো ভলি ভিয়েতনাম গোলরক্ষক ড্যাং ভ্যান দাম বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকান। ২৬ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ভালো জায়গায় বল পেয়েও এলোমেলো শটে সুযোগ নষ্ট করেন সোহেল রানা।
৩২ মিনিটে ভিয়েতনামের আরেকটি আক্রমণ থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচান শ্রাবণ। হাই লংয়ের শট এক হাতে ঠেকিয়ে স্কোরলাইন ৩-০ হওয়া থেকে দলকে রক্ষা করেন তিনি। তবে ৩৮ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। ব্যবধান ৩-০ করেন হাই লং, দুই ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে তারিক কাজীর পায়ের ফাঁক দিয়ে দূরের পোস্টে বল পাঠান তিনি।
দলের গঠন ও অনুপস্থিত খেলোয়াড়
এই ম্যাচে পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার—শমিত সোম, জায়ান আহমেদ, তারিক কাজী ও ফাহমিদুল ইসলাম—নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। দলে ছিলেন না ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচ খেলা গোলরক্ষক মিতুল মারমা, তপু বর্মণ, রাকিব হোসেন এবং শেখ মোরসালিন। বাংলাদেশের একাদশে ছিলেন মেহেদি হাসান শ্রাবণ, শাকিল আহাদ তপু, হামজা চৌধুরী, মিরাজুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, তারিক কাজী, ফাহামেদুল ইসলাম, সোহেল রানা (অধিনায়ক), জায়ান আহমেদ, সাদ উদ্দিন ও শমিত সোম।



