বুমরার জাদুতে ভারতের রাজকীয় বিশ্বকাপ জয়
যশপ্রীত বুমরা কি মনে রাখেন আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের সেই রাতের কথা? ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর, ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ হারানোর সেই বেদনাদায়ক মুহূর্ত। কিন্তু রোববার, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে, সেই একই মাঠে বুমরা তার জাদুকরী বোলিং দিয়ে ভারতকে নিয়ে এলেন এক ঐতিহাসিক জয়ের উৎসবে। নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ৯৬ রানে গুড়িয়ে দিয়ে ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে বুমরা ছিলেন প্রধান কারিগর।
ফাইনালে বুমরার অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স
ফাইনাল ম্যাচে বুমরা ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেন। তার এই অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার জয় করেন। ব্যাটিং স্বর্গে কিউইদের ১৫৯ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পেছনে বুমরার বোলিং ছিল মূল হাতিয়ার।
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বুমরা বলেন, 'উইকেটটা ফ্ল্যাট ছিল, তাই আমি জানতাম এখানে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। টুর্নামেন্টের শুরুতে একটু বেশি চেষ্টা করে ফেলেছিলাম, কিন্তু পরে নিজেকে বোঝালাম, খেলাটাকে নিজের কাছে আসতে দিতে হবে। সেটাই শেষ পর্যন্ত কাজে লেগেছে।'
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে বুমরার অনন্য উচ্চতা
এই ফাইনালে বুমরা শুধু ম্যাচসেরাই হননি, বরং নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে পেসারদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক তিনি। ২৬ ম্যাচে তার শিকার এখন ৪০ উইকেট। তিনি পেছনে ফেলে দিয়েছেন লাসিথ মালিঙ্গা ও আনরিখ নরকিয়াকে, যাদের উইকেট সংখ্যা ৩৮। বুমরার ওপরে আছেন শুধু চার স্পিনার—রশিদ খান (৪৩ উইকেট), অ্যাডাম জাম্পা ও আদিল রশিদ (৪৪ উইকেট), এবং সাকিব আল হাসান (৫০ উইকেট)।
সতীর্থদের প্রশংসায় বুমরার বিনয়
বুমরা নিজে জ্বলে উঠলেও, সতীর্থদের প্রশংসায় ভাসাতেও কার্পণ্য করেননি। অর্শদীপ সিংরা উইকেট না পেলেও বুমরার মতে, তাদের সম্মিলিত পরিকল্পনাই ভারতকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা কখনোই আতঙ্কিত হইনি। মাথা ঠান্ডা রেখেছিলাম। যারা সেটা পারে, তারাই দিনশেষে ট্রফি জেতে।'
আহমেদাবাদের ক্ষত থেকে উৎসবে রূপান্তর
২০২৩ সালের সেই কান্নার রাতে আহমেদাবাদ ছিল এক বিষাদের শহর। কিন্তু ২০২৬-এর এই রাতে সেই একই শহর বুমরার জাদুতে ভাসছে রঙের উৎসবে। বুমরা নিজেও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন, 'নিজের ঘরের মাঠে একটা ফাইনাল হেরেছিলাম, আজ জিতলাম। এর চেয়ে বড় পাওনা আর কী হতে পারে!'
ম্যাচ শেষ। গ্যালারির গর্জন কমছে। কিন্তু বুমরার সেই রান-আপ আর উইকেটের পেছনে উল্লাসের ছবিটা রয়ে যাবে ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে। আহমেদাবাদের সেই পুরোনো ঋণ বুমরা যে শোধ করলেন রাজকীয় ঢঙে, তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।



