কোপা দেল রে সেমিফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের ৪-০ গোলে বার্সেলোনার ভরাডুবি
কোপা দেল রে সেমিফাইনালে আতলেতিকোর ৪-০ গোলে বার্সার বিপর্যয়

কোপা দেল রে সেমিফাইনালে আতলেতিকোর চার গোলে বার্সেলোনার বিপর্যয়

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কোপা দেল রে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদ ৪-০ গোলে বার্সেলোনাকে পরাজিত করে একটি ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে। এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আলোচনার মাঝে অনেকের নজর এড়িয়ে গেলেও, আতলেতিকোর এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছে।

প্রথমার্ধেই চার গোলের ঝড় তুলল আতলেতিকো

ম্যাচের শুরু থেকেই আতলেতিকো মাদ্রিদ আক্রমণাত্মক ফুটবল উপস্থাপন করে। মাত্র ৭ মিনিটে বার্সেলোনার ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার আত্মঘাতী গোলে আতলেতিকো এগিয়ে যায়। এরপর ১৪ মিনিটে আতোয়াঁন গ্রিজমান দ্বিতীয় গোলটি করেন। ৩৩ মিনিটে আদেমোলা লোকমান তৃতীয় গোলটি যোগ করেন এবং প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে হুলিয়ান আলভারেজ চতুর্থ গোলটি করে দলকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে রাখেন।

এই ফলাফলের মাধ্যমে, ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো বার্সেলোনা কোনো অফিশিয়াল ম্যাচে প্রথমার্ধে চার গোল পিছিয়ে পড়েছে। প্রায় ৭২ বছর আগে, লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বার্সা এমন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বার্সেলোনার জন্য বিব্রতকর অবস্থা

এই পরাজয় বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিকের জন্য বিশেষভাবে কঠিন হয়েছে। ফ্লিক তার ২১ বছরের পেশাদার কোচিং ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো চার বা ততোধিক গোল খেয়ে পরাজিত হয়েছেন। ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা দল হিসেবে ভালো খেলতে পারিনি, আসলে দল হিসেবেই খেলিনি। খেলোয়াড়দের মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি ছিল এবং আমরা যেভাবে তাদের ওপর প্রেসিং করতে চেয়েছিলাম পারিনি।’

এছাড়া, এরিক গার্সিয়া আত্মঘাতী গোল করার পর ৮৫ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, যা কোপা দেল রের ১২৩ বছরের ইতিহাসে বার্সার প্রথম কোনো খেলোয়াড়ের জন্য এমন ঘটনা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফাইনালে যাওয়ার পথ এখন কঠিন

এই পরাজয়ের পর বার্সেলোনাকে এখন ফাইনালে যেতে হলে আগামী ৩ মার্চ ফিরতি লেগে ন্যূনতম ৫ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে। চার গোল করলে ম্যাচ টাইব্রেকারে নেওয়ার সুযোগ থাকবে, কিন্তু এটি একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। এর আগে, ১৯৭৭ সালে মিরান্দেস দল প্রথম লেগে ৪-০ গোলে হেরে ফিরতি লেগে ৬-১ গোলে জিতে বাজিমাত করেছিল, যা বার্সার জন্য একটি অনুপ্রেরণা হতে পারে।

আতলেতিকো মাদ্রিদের জন্য, এই জয়টি বার্সার বিপক্ষে তাদের যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বড় জয়। ১৯৪১ সালে কোপা প্রেসিদেন্তেতেতে ৬-০ গোলে জিতেছিল আতলেতিকো, এবং গতকালের জয়টি তাদের বার্সার বিপক্ষে চতুর্থ ৪-০ গোলের জয় হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে।

সব মিলিয়ে, এই ম্যাচটি বার্সেলোনার জন্য একটি বড় শিক্ষা হিসেবে কাজ করেছে, এবং আতলেতিকো মাদ্রিদ তাদের শক্তিশালী উপস্থাপনার মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বকে চমক দিয়েছে।