ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের সঠিক সময় এখনই: কাফুর দৃঢ় বিশ্বাস
ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি কাফু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ব্রাজিলের জন্য বিশ্বকাপ জয়ের সঠিক সময় এখনই ঘনিয়ে এসেছে। ২০০২ সালের পর থেকে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ শিরোপা না জিতলেও কাফুর মতে, কার্লো আনচেলত্তির মতো অভিজ্ঞ কোচের নেতৃত্বে ব্রাজিল এবারের আসরে সফলতা পেতে পারে।
আনচেলত্তির নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ
মাদ্রিদে লরিয়াস পুরস্কার অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কাফু বলেন, 'সর্বশেষ শিরোপা জয়ের ২৪ বছর পর আমি মনে করি, ব্রাজিলের জন্য এখনই সঠিক সময়।' তিনি যুক্তি দেন যে, কার্লো আনচেলত্তির মতো একের পর এক শিরোপা জেতার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোচ ব্রাজিল দলের শ্রেষ্ঠত্বকে আরও বড় করে তুলবেন। কাফু বিশ্বাস করেন, আনচেলত্তি মূলত রক্ষণভাগকে আরও মজবুত করার দিকে মনোযোগ দিলে ব্রাজিলের সাফল্য নিশ্চিত।
ভিনিসিয়ুস ও এনদ্রিকের ভূমিকা
কাফু ব্রাজিলের শীর্ষ তারকাদের নিয়েও আলোচনা করেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সম্পর্কে তিনি বলেন, 'বিশ্বকাপ হলো যেকোনো ধরনের বিতর্ক কাটিয়ে ওঠার সবচেয়ে ভালো সুযোগ।' বিশ্বকাপের আটটি ম্যাচে ভিনিসিয়ুসের সামনে পুরো বিশ্বের সামনে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
এনদ্রিকের বিষয়ে কাফু উল্লেখ করেন যে, রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে অলিম্পিক লিওঁতে যাওয়া এই ফরোয়ার্ডের জন্য খুবই উপকারী হয়েছে। তিনি বলেন, 'এটা তার অনেক উপকার করেছে। এর ফলে সে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে।' কাফু নিশ্চিত, আনচেলত্তিও এনদ্রিককে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং বিশ্বকাপে তার ভালো সুযোগ রয়েছে।
নেইমারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
নেইমারের বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। কাফুর মতে, নেইমারের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ কৌশলগত বা টেকনিক্যাল নয়, বরং সময়। তিনি বলেন, 'নেইমার বিশ্বকাপে খেলবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত একমাত্র সে-ই নেবে। কিন্তু আসলে সে নিজেও জানে না, সে থাকবে কি না। এটা অনেকটাই সময়ের ওপর নির্ভর করছে, আর সময় তার হাতে খুব বেশি নেই।'
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও সময়সূচি
আগামী ১৮ মে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করবেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে। কাফুর বিশ্বাস, ব্রাজিল যদি বিশ্বকাপে গোল না খায়, তাহলে তারা নিশ্চিতভাবে প্রতি ম্যাচেই অন্তত একটি করে গোল করবে এবং শিরোপা জিততে সক্ষম হবে।
৫৫ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি রাইটব্যাক ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিন বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছেন এবং ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে শিরোপা জিতেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণ ব্রাজিলের ভক্তদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।



