কাকাতুয়া ভাস্কর্যের সৌভাগ্যে বায়ার্ন মিউনিখের বুন্দেসলিগা শিরোপা জয়
কাকাতুয়া ভাস্কর্যের সৌভাগ্যে বায়ার্নের বুন্দেসলিগা জয়

বায়ার্ন মিউনিখের বুন্দেসলিগা শিরোপা জয় ও কাকাতুয়ার রহস্যময় ভূমিকা

জার্মান ফুটবল লিগ বুন্দেসলিগার ৩৫তম শিরোপা নিশ্চিত করেছে বায়ার্ন মিউনিখ। গত রোববার আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় স্টুটগার্টকে ৪-২ গোলে হারিয়ে তারা এই কৃতিত্ব অর্জন করে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রফি হাতে পেতে খেলোয়াড়দের কোলনের বিপক্ষে মৌসুমের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, তবুও শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই উৎসবের আমেজে ভাসছে পুরো দল। আর এই উদ্‌যাপনে দেখা মিলেছে এক কাকাতুয়া পাখির ভাস্কর্যের, যা দলের জন্য সৌভাগ্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

কাকাতুয়া ভাস্কর্যের উৎস ও ব্যতিক্রমী উদ্‌যাপন

গত মৌসুম থেকে বায়ার্নের শিরোপা উদ্‌যাপনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে এই কাকাতুয়া ভাস্কর্য। এটি আসল কোনো পাখি নয়; বরং একটি চিনামাটির তৈরি শিল্পকর্ম, যা খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতবদল হতে দেখা যায়। বায়ার্ন তারকা লিওন গোরেৎজা এই ভাস্কর্যের সঙ্গে পোজ দিয়ে ছবি তুলেছেন, আর দলের সাদা টি-শার্টেও কাকাতুয়ার কার্টুনচিত্র ছাপানো ছিল। শিরোপা নিশ্চিত করার পর আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার দক্ষিণ পাশের স্ট্যান্ডের সামনে দাঁড়িয়ে পুরো দল, কোচ ও স্টাফদের ছবি তোলার দৃশ্য হয়ে উঠেছে একেবারে ব্যতিক্রমী।

চুরির গল্প থেকে সৌভাগ্যের প্রতীক

সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভাস্কর্যের পেছনে রয়েছে এক ছোটখাটো চুরির গল্প। গত মৌসুমে বায়ার্ন লেভারকুসেনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, যখন দলের সবাই মিউনিখের কেফার ট্যাভার্ন রেস্তোরাঁয় জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে তারা একটি কাকাতুয়া ভাস্কর্য দেখতে পেয়ে, কেউ একজন তা লুকিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে নেন। রেস্তোরাঁর মালিক মাইকেল কেফার বহু বছর আগে প্যারিস থেকে এটি সংগ্রহ করেছিলেন। পরে কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি এটিকে দলের ‘মাসকট’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং রেস্তোরাঁয় ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, কেফার ইতিবাচকভাবে বিষয়টি নিয়ে ভাস্কর্যটি ক্লাবকে উপহার দেন। এরপর থেকে এটি বায়ার্নের জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক বা ‘লাকি চার্ম’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কাকাতুয়ার বাণিজ্যিক সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এই ঘটনা কেফার ও তাঁর রেস্তোরাঁর জন্যও লাভজনক হয়েছে। বায়ার্নের শিরোপা জয়ের স্মরণে সেখানে কাকাতুয়া ছবিযুক্ত বিশেষ পণ্যের সিরিজ বিক্রি শুরু হয়েছে, যেখানে পাখিটি গলায় লিগ ট্রফি পরেছে। আগে কাকাতুয়া ভাস্কর্যকে ক্লাব বিশ্বকাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এবং বায়ার্ন আশা করছে চলতি মৌসুমে ফ্রেঞ্চ কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় ম্যাচে জয়ের জন্য এটিকে ব্যবহার করতে পারবে। খেলোয়াড় জশুয়া কিমিখ জানিয়েছেন, কোচিং স্টাফের অ্যারন ড্যাঙ্কস ভাস্কর্যটি নিরাপদে রাখার দায়িত্বে রয়েছেন, এবং দল জিতলেই তা বের করে আনা হয়।

শিরোপা জয়ের পথে বায়ার্নের উচ্চাকাঙ্ক্ষা

বুন্দেসলিগা শিরোপা নিশ্চিত করলেও বায়ার্নের এই মৌসুমে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ বাকি। তারা ইতিমধ্যে ফ্রেঞ্চ কাপের সেমিফাইনালে উঠেছে, যেখানে বুধবার লেভারকুসেনের মুখোমুখি হবে। আগামী সপ্তাহে চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে পিএসজির বিপক্ষেও খেলতে নামবে। সব মিলিয়ে একাধিক শিরোপা জেতার সুযোগ রয়েছে দলটির, এবং তারা এই যাত্রায় কাকাতুয়া ভাস্কর্যকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে সামনে আনতে চায়। যদিও ভাস্কর্যটি কে সরিয়েছিলেন তা এখনো রহস্য রয়ে গেছে, গোরেৎজা ও কিমিখের নাম জল্পনায় থাকলেও কেউই স্বীকার করছেন না।