ইতিহাস গড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত: প্রথমবারের মতো পাঁচ বিদেশি ক্রিকেটারকে নাগরিকত্ব
ইতিহাস গড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত: পাঁচ ক্রিকেটারকে নাগরিকত্ব

ইতিহাস গড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত: প্রথমবারের মতো পাঁচ বিদেশি ক্রিকেটারকে নাগরিকত্ব

প্রথমবারের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাত একসঙ্গে পাঁচ বিদেশি ক্রিকেটারকে নাগরিকত্ব প্রদান করেছে, যা দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই ক্রিকেটারদের দলে অন্তর্ভুক্ত করে সোমবার (২০ এপ্রিল) নেপালের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে অংশ নিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি।

নাগরিকত্বের নতুন দিগন্ত

দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান ও ভারতে জন্ম নেওয়া ক্রিকেটাররা আরব আমিরাত জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলে আসছেন, তবে তা ছিল বসবাসের শর্তপূরণের মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এর নিয়মানুযায়ী, কোনো দেশে তিন বছর বসবাস করলে সে দেশের হয়ে খেলা যায়। কিন্তু এবার নতুন পাঁচ ক্রিকেটার বসবাসের শর্তপূরণ না করেই সরাসরি নাগরিক হিসেবে এবং পাসপোর্টধারী হিসেবে আমিরাতের হয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

ইএসপিএন ক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ক্রিকেটারদের ন্যাচারালাইজেশন বা স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকত্ব দেওয়া হলো এই প্রথম। এটি দেশটির ক্রিকেট প্রশাসনের একটি সাহসী ও উদ্ভাবনী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নাগরিকত্বপ্রাপ্ত ক্রিকেটারদের পরিচয়

আরব আমিরাতে নাগরিকত্ব পাওয়া পাঁচ ক্রিকেটার হলেন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • খুজাইমা তানভীর: পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে জন্মগ্রহণকারী এই ক্রিকেটার।
  • অজয় কুমার: ২৯ বছর বয়সী এই বাঁহাতি পেসার টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
  • অক্ষদীপ নাথ: ভারতীয় ক্রিকেটের পরিচিত মুখ, লখনউয়ের ৩২ বছর বয়সী এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান আইপিএলে বেঙ্গালুরু, পাঞ্জাব ও গুজরাটের হয়ে খেলেছেন এবং ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্য ছিলেন।
  • হারপ্রীত ভাটিয়া: ছত্তিশগড়ের এই ক্রিকেটার ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল এবং আইপিএলে পুনে ওয়ারিয়র্স ও পাঞ্জাব কিংসের হয়ে খেলেছেন, ৩৪ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটার।
  • আদীব উসমানি: মুম্বাইয়ের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সাবেক সদস্য।

ক্রিকেটারদের প্রতিক্রিয়া

নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অজয় কুমার ‘দ্য ন্যাশনাল’কে বলেন, ‘যেদিন থেকে আমি সংযুক্ত আরব আমিরাতে পা রেখেছি, সেদিন থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই দেশের প্রতিনিধিত্ব করা আমার স্বপ্ন ছিল। এখন আমি সেই সুযোগটি পাচ্ছি, যা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’

খুজাইমা তানভীর আরব আমিরাতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘যদি আপনি আপনার দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান, তবে যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য এটি অসাধারণ এক অনুভূতি। এই নাগরিকত্ব আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে।’

এই পদক্ষেপটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রিকেট দলের শক্তি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়ানোর একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমী মহলে এটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের জন্যও একটি উদাহরণ স্থাপন করতে পারে।