আগামী বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ফিফার এই মহাযজ্ঞে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের জন্য বেশ কিছু কঠোর নিয়মকানুন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালীন ফুটবলাররা আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) এবং বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থার (ওয়াদা) কঠোর নজরদারিতে থাকবেন।
মাঠের নিয়ম
জার্সি খোলা বারণ: গোল করার পর আবেগের বশে জার্সি খুলে ফেললে রেফারি সঙ্গে সঙ্গে হলুদ কার্ড দেখাবেন। এটি ফিফার স্পষ্ট নির্দেশনা।
সীমাছাড়া উদযাপন: গোল উদযাপনে সময় নষ্ট করা বা দর্শকদের উসকানি দেওয়া নিষিদ্ধ। ফিফা এসব অতি উদযাপনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে পারে।
গয়নাগাটি নিষিদ্ধ: মাঠে আংটি, চেইন বা ব্রেসলেট পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফিফার মতে, এগুলো খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সুরক্ষাকবচে সবুজ সংকেত: ব্যান্ডেজ, ফেস মাস্ক বা গার্ডের মতো সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারবেন খেলোয়াড়রা, তবে দলীয় চিকিৎসক ও রেফারির অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
গোপন বার্তা নয়: ভেতরের গেঞ্জি বা পোশাকে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বার্তা প্রদর্শন করা যাবে না। অন্যথায় বড় শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
রেফারির সঙ্গে কথা: ম্যাচ চলাকালীন রেফারির সঙ্গে কথা বলা অপরাধ নয়, তবে আক্রমণাত্মক মনোভাব বা গালিগালাজ করলে হলুদ বা লাল কার্ড দেখা যেতে পারে।
ডাইভিংয়ের শাস্তি: ফাউলের ভান করা বা অযথা ডাইভ দেওয়া দর্শকদের পছন্দ নয়। রেফারিকে ঠকানোর চেষ্টায় হলুদ কার্ড নিশ্চিত।
হলুদ কার্ডের বোঝা: আলাদা দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলে পরের ম্যাচে ওই খেলোয়াড়কে দর্শক সারিতে বসে থাকতে হবে।
লাল কার্ডের নিয়ম: লাল কার্ড দেখার পর মাঠ ছাড়তে দেরি করলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়তে পারে।
ডোপ টেস্ট ও স্বাস্থ্য
ডোপ টেস্টের কড়াকড়ি: বিশ্বকাপজুড়ে ডোপবিরোধী নজরদারি থাকবে। ম্যাচ শেষে, অনুশীলনে বা টিম হোটেলেও যেকোনো সময় ডোপ টেস্টের জন্য ডাকা হতে পারে।
পরীক্ষায় ‘না’ বলা যাবে না: ফিফা ও ওয়াডার নিয়ম অনুযায়ী, ডোপ টেস্টে অস্বীকৃতি বা নমুনায় কারচুপি করলে ক্যারিয়ারে বড় নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
মাথার আঘাত: মাথায় চোট পেলে বা অচেতন হলে রেফারি ও ডাক্তারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলে ওই খেলোয়াড় আর খেলতে পারবেন না।
সোশ্যাল মিডিয়া ও মিডিয়া
সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার: খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ চলাকালীন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন, তবে অনেক দলই অনলাইন গতিবিধির ওপর নজর রাখে।
আপত্তিকর পোস্ট নিষিদ্ধ: বর্ণবাদী বা রাজনৈতিক উসকানিমূলক পোস্ট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি: ফিফার অফিশিয়াল মিডিয়া কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাক্ষাৎকার ও সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে বাধা নেই। তবে পূর্ব অনুমতি ছাড়া মিডিয়া সেশন এড়ানো যাবে না; অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনকে জরিমানা গুনতে হবে।
অন্যান্য নিয়ম
জার্সি বদল: ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে জার্সি বদল করা যাবে। ফিফা এই ঐতিহ্যবাহী রীতিতে সম্মতি দিয়েছে।
স্বাধীনতায় লাগাম: ক্যাম্প বা হোটেল ছাড়তে কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্টের আগাম অনুমতি লাগবে।
স্পনসর বিতর্ক: অফিশিয়াল অনুষ্ঠানে অননুমোদিত স্পনসর বা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডের প্রচার নিষিদ্ধ।
বর্ণবাদবিরোধী ক্যাম্পেইন: ম্যাচ শুরুর আগে বর্ণবাদবিরোধী কর্মসূচিতে (যেমন হাঁটু গেড়ে বসা) অংশ নেওয়া যাবে, তবে পূর্ব অনুমোদন সাপেক্ষে।
যাতায়াতের নিয়ম: হোটেল, অনুশীলন মাঠ বা স্টেডিয়ামে যাতায়াতে শুধু ফিফার নির্ধারিত অফিশিয়াল যানবাহন ব্যবহার করতে হবে।



