ইরান-যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্বকাপে কি আবার মুখোমুখি হবে দুই যুদ্ধরত দেশ?
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র: বিশ্বকাপে কি আবার মুখোমুখি হবে দুই দেশ?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, বিস্ফোরক নৌকা ও সমুদ্রিক মাইনসহ সর্বাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছে দুই পক্ষ। এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, লাখো মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে দুই পক্ষ পরোক্ষ আলোচনায় যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করছে। যুদ্ধের ৯৫তম দিনে এসেও কে এগিয়ে আছে তা বলা কঠিন, কারণ দুই দেশের লক্ষ্য সম্পূর্ণ আলাদা।

এই উত্তেজনার মধ্যেই আগামী ১১ জুন মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় শুরু হচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। আর তাতে মাঠে নামছে যুদ্ধরত এই দুই দেশের জাতীয় ফুটবল দলও। ফলে সমর্থক ও বিশেষজ্ঞরা রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। প্রশ্ন উঠছে, এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী কি আবার এই ‘মহারণে’ মুখোমুখি হবে?

ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রা

ইরান জাতীয় দল গত ২৫ মার্চ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্রয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। নিরাপত্তা ও লজিস্টিক কারণে ইরান দল মেক্সিকোর তিহুয়ানায় অবস্থান করবে। তবে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলবে যুক্তরাষ্ট্রে– দুটি ক্যালিফোর্নিয়ায় ও একটি ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুই দল কি মুখোমুখি হতে পারবে?

২০২২ বিশ্বকাপে একই গ্রুপে পড়েছিল দুই দল। তবে এবারের বিশ্বকাপে দুই দেশ আছে দুটি আলাদা গ্রুপে। গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৫-এ অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্রতে দেখা যায় ইরান রয়েছে গ্রুপ জি-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে গ্রুপ ডি-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া, প্যারাগুয়ে ও তুরস্ক। তাই দুই দলের দেখা হতে পারে কেবল নকআউট পর্বে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা হলো রাউন্ড অব ৩২-এ। এ ক্ষেত্রে অবশ্য দুই দলকেই নিজ নিজ গ্রুপে দ্বিতীয় হতে হবে। যদি দুই দলই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়, তাহলে রাউন্ড অব ৩২-এ ভিন্ন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে রাউন্ড অব ১৬-তে মুখোমুখি হতে পারে। কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হওয়ার পথটি আরও জটিল এবং বেশ কিছু শর্তের উপর নির্ভরশীল।

অতীতের তিন লড়াই

এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ইরান ২-১ গোলে জেতে। ২০০০ সালে একটি প্রীতি ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়। আর ২০২২ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র ১-০ গোলে জেতে।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ম্যাচটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল স্পষ্ট। ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানের পতাকা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতীক ছাড়া পোস্ট করে। ফেডারেশন বলেছিল, ২০২২ সালে মাশা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানের রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন দেখাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনেও বাদানুবাদ হয়। তৎকালীন কোচ গ্রেগ বেরহালতার ও অধিনায়ক টাইলার অ্যাডামসকে মার্কিন বিদেশ নীতি ও পতাকা বিতর্ক নিয়ে প্রশ্নের পর প্রশ্নের সামনে পড়তে হয়। এক সাংবাদিক বেরহালতারকে জিজ্ঞেস করেন, ইরান জিতলে কতজন খুশি হবেন। বেরহালতার জবাব দেন, ‘আমাদের কাছে এটা একটি ভালো দলের বিপক্ষে ফুটবল ম্যাচ। এর বেশি কিছু নয়।’

একজন ইরানি সাংবাদিক অ্যাডামসকে ‘ইরান’ শব্দটি ভুল উচ্চারণের জন্য এবং কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের মধ্যে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়ে প্রশ্ন করেন। অ্যাডামস বলেন, ‘আপনার দেশের নাম ভুল উচ্চারণের জন্য ক্ষমা চাইছি। তবে বৈষম্য সর্বত্রই আছে।’

১৯৯৮ বিশ্বকাপের ম্যাচটিও ছিল রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত। ১৯৭৯ সালের জিম্মি সংকটের মাত্র দুই দশকের কম সময় পর দুই দল মুখোমুখি হয়। কিছু গণমাধ্যম ও বিশ্লেষক এই ম্যাচকে 'মাদার অফ অল ম্যাচেস' বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে সব উত্তেজনার মধ্যেও ইরানের খেলোয়াড়রা মার্কিন খেলোয়াড়দের সাদা ফুল উপহার দিয়েছিলেন শান্তির প্রতীক হিসেবে। সেই উদারতার স্বীকৃতিস্বরূপ দুই দলই ফিফার ফেয়ার প্লে পুরস্কার পেয়েছিল।

২০২৬ বিশ্বকাপের সম্ভাবনা

এখন ২০২৬ বিশ্বকাপে দুই দলের নকআউট পর্বে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বেশ ভালো। ইরান কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত। আর আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ আরও দূর পর্যন্ত যাওয়ার প্রত্যাশা রাখছে। গ্রুপ পর্ব শুরু হলেই পরিষ্কার হবে দুই দলের ফর্ম এবং রাউন্ড অব ৩২ বা অন্য কোনো পর্বে সেই বহু প্রতীক্ষিত দ্বৈরথ সত্যিই হবে কিনা।