রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আজ রোববার সকালে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বেলা ১১টায় এজলাসে এসে রায় পড়া শুরু করেন এবং ১১টা ৪০ মিনিটে রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিবরণ
আদালত জানান, আসামি সোহেল রানার জবানবন্দি, তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য ও সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী চিকিৎসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। অপরাধে সব ধরনের সহযোগিতা করায় তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারও একই অপরাধে অপরাধী বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
সাক্ষ্য-প্রমাণ
আদালতের পর্যালোচনায় বলা হয়, চিকিৎসকের সাক্ষ্য ও তথ্যে প্রমাণিত হয়েছে যে ওই শিশুকে ধর্ষণ ও পরে হত্যা করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী পুলিশের সাক্ষ্যেও বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। ১ নম্বর থেকে ১৬ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য থেকে উঠে আসে যে, ধর্ষণ ও হত্যার পর আসামি সোহেল রানা গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। এ সময় আরেক আসামি স্বপ্না আক্তার ওই ফ্ল্যাটেই ছিলেন এবং হত্যা ও ধর্ষণকাজে বাধা না দিয়ে অপরাধে সহযোগিতা করেন। ফলে উভয়েই একই অপরাধে অপরাধী।
ঘটনার সময়রেখা
আদালত আরও বলেন, সব সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত যে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে আসামি সোহেল রানা ওই শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা করে। তার জবানবন্দিতে তিনি অপরাধ স্বীকার করেন। ঘটনার দিন (১৯ মে) পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের আগেই সোহেল শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। বাসা থেকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে তখনই আটক করা হয়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।
আইনি প্রক্রিয়া
২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। ১ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর চার্জগঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে গত বৃহস্পতিবার শুনানি শেষ হয় এবং আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় আজ রায় ঘোষণা হলো।
উল্লেখ্য, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং প্রথম আলোর নীতিমালা অনুসারে এই প্রতিবেদনে শিশুটি ও তার মা–বাবার নাম, পরিচয় দেওয়া হয়নি।



