বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট আম্পায়ারদের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন সাথিরা জাকির। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন। আগামী ১২ জুন ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মাটিতে শুরু হবে ২০২৬ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। আজ আইসিসি টুর্নামেন্টের আম্পায়ার প্যানেল ঘোষণা করেছে, যেখানে সাথিরা জাকিরসহ ১৪ জন নারী আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারি স্থান পেয়েছেন।
সাথিরার আম্পায়ারিং ক্যারিয়ার
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ারিংয়ে অভিষেক হয় সাথিরার। এরপর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এখন পর্যন্ত ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ২২ ম্যাচে অন-ফিল্ড এবং ১২ ম্যাচে টিভি আম্পায়ারের দায়িত্বে দেখা গেছে তাঁকে। এছাড়া ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনি ১৬টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন, যার মধ্যে ২০২৫ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচও অন্তর্ভুক্ত।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নারীদের অংশগ্রহণ
এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১২টি দল অংশ নিচ্ছে। টুর্নামেন্টের শুরুতে পুরুষ আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিরা দায়িত্বে থাকলেও অষ্টম আসর থেকে পুরো টুর্নামেন্ট পরিচালনার দায়িত্ব শুধুমাত্র নারীদের ওপর ন্যস্ত হয়েছে। আইসিসি জানিয়েছে, ক্রিকেটে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে টানা তৃতীয়বারের মতো সম্পূর্ণ নারী ম্যাচ অফিশিয়াল প্যানেল ব্যবহার করা হচ্ছে।
এবারের আসরে সাথিরা জাকিরের সঙ্গে আম্পায়ার হিসেবে অভিষেক হচ্ছে ক্যান্ডেস লা বোর্ডে, গায়ত্রী বেনুগোপালন এবং কেরিন ক্লাস্টের। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা জানান, এই অফিশিয়ালদের অগ্রগতি এবং ২০২৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দেখানো মাঠের পারফরম্যান্স বিবেচনা করেই তাদের এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ
এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ। এই গ্রুপের অন্য দলগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
সাথিরা জাকিরের এই সাফল্য বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য একটি মাইলফলক। তার এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও নারীকে ক্রিকেট আম্পায়ারিংয়ে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



