বুমরার আইপিএলে ব্যর্থতা: জাদু হারানোর রহস্য উদঘাটন
বুমরার আইপিএলে ব্যর্থতা: জাদু হারানোর রহস্য

যশপ্রীত বুমরা এবারের আইপিএলে ১৩ ম্যাচে মাত্র ৪টি উইকেট নিয়েছেন, যা তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স। গত কয়েক বছর ধরে তাকে যারা অনুসরণ করছেন, তাদের কাছে এটি অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের নীল জার্সিতে বুমরাকে যেন অচেনা লাগছে। তার ইকোনমি রেট ছিল ৮.৩৬, যা রান-বৃষ্টির আইপিএলে খুব মন্দ নয়, কিন্তু বুমরা শুধু রান আটকানোর বোলার নন, তিনি উইকেট শিকারিও। সেটাই তিনি এবার করতে পারেননি।

বিশ্বকাপ জয়ের পর আইপিএলে ছন্দপতন

মার্চে ভারতকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতাতে বড় ভূমিকা রাখা বুমরা আইপিএলে নামার পর যেন বোলিংই ভুলে গেছেন। প্রতিটি উইকেটের পেছনে খরচ করেছেন ১০২.৫০ রান, যা ১৩ বছরের আইপিএল ক্যারিয়ারে তার সবচেয়ে খারাপ বোলিং গড়। প্রশ্ন উঠেছে, কোথায় হারাল বুমরার জাদু?

আইপিএল দু-একটা ম্যাচের টুর্নামেন্ট নয়। এখানে লিগ পর্বেই খেলা হয় ১৪ ম্যাচ। বুমরার দল এরই মধ্যে ১৩টি খেলেছে। আজ রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি তাদের জন্য নিয়মরক্ষার, কারণ দলটি বাদ পড়ে গেছে আগেই। লম্বা সময় ধরে কেন পারফর্ম করতে ব্যর্থ হলেন বুমরা?

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চোট ও ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের প্রভাব

এবারের আইপিএলে ৪ উইকেট নেওয়া বুমরা টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলেন চোট নিয়ে। টুর্নামেন্টের প্রথমার্ধে পুরো গতিতে বোলিং করতে পারেননি। শেষের ম্যাচগুলোতে গতি ফিরলেও উইকেটের ভাগ্য ফিরল না। চোট ও ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের নানা আলোচনার মধ্যেও বুমরা টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচ খেলেছেন।

আইপিএলের ঠিক আগে তার পারফরম্যান্স কেমন ছিল? টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে জিতেছেন বিশ্বকাপ। সেই বিশ্বজয়ের ক্লান্তি না কাটতেই আইপিএল খেলাই কি বুমরার এই ছন্দপতনের কারণ? মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হেড কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনে অবশ্য দেখছেন অনেকগুলো কারণের এক জটিল সমীকরণ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জয়াবর্ধনের বিশ্লেষণ

বুমরা কেন ব্যর্থ হয়েছেন সেই বিষয়ে জয়াবর্ধনে বলেন, 'আমার মনে হয় বিশ্বকাপ থেকে ফেরার সময়ও বুমরার একটা ছোটখাটো চোট ছিল, যা নিয়েই ও পুরো বিশ্বকাপ খেলেছে। তাই আমরা ওকে ফিরে আসার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিয়েছি। প্রথম চার-পাঁচটি ম্যাচ ছিল ওর চোট কাটিয়ে ওঠার জন্য ধাপে ধাপে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া। এই কারণেই ওর বোলিংয়ের গতি কিছুটা কমে গিয়েছিল।'

তিনি যোগ করেন, 'এখন বুমরা আবার গতি ফিরে পেয়েছে। শেষ চার-পাঁচটি ম্যাচ ভালোই করেছে। তবে যখন কেউ এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়, তখন লাইন-লেংথের নিখুঁত প্রয়োগ বা ধার কিছুটা কমে যায়, কারণ মনের ভেতরও অন্য একটা লড়াই চলে। তবে বুমরা এখন শারীরিকভাবে শতভাগ ফিট—দুর্ভাগ্যবশত আমাদের জন্য এই মৌসুমটা এখানেই শেষ হয়ে গেল।'

প্রতিপক্ষের সমীহ ও দলগত ব্যর্থতা

ফর্ম না থাকলেও নামের ভারে বুমরার 'ওজন' অনেক। যে কারণে অনেক সময়ই তাকে সমীহ করে খেলেছে দলগুলো। বুমরার উইকেট না পাওয়ার কারণ এটিও বলে মনে করেন মুম্বাই কোচ, 'আমার মনে হয় দলগুলো নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে ওর বিপক্ষে বেশি ঝুঁকি নেয়নি। তারা ওকে সমীহ করে খেলে পার করে দিয়েছে। আর আমরাও অন্য প্রান্ত থেকে চাপ তৈরি করতে পারিনি। কোনো একটা নির্দিষ্ট কারণে এমন হয়েছে সেটা বলা যাবে না, এখানে বেশ কিছু কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে।'

পরিসংখ্যানে বুমরার ব্যর্থতা

এই মৌসুমেও বুমরা তার নিয়মিত উইকেট পাওয়ার মূল অস্ত্র—স্লোয়ার ও ইয়র্কারের ওপর ভরসা রেখেছিলেন। কিন্তু সেগুলো তাকে কোনো ব্রেকথ্রু এনে দিতে পারেনি। এখন পর্যন্ত তিনি ৮২টি স্লোয়ার বল করেছেন, রান দিয়েছেন ৮.২৭ হারে। আর ৩১টি ইয়র্কার করেছেন মাত্র ৩.৬ ইকোনমি রেটে। কিন্তু এসবের একটি থেকেও উইকেট পাননি। উল্টো এই মৌসুমেই তিনি সবচেয়ে বেশি বাউন্ডারি (৪৩টি) এবং যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কা (১২টি) হজম করেছেন। ৭টি নো বলও করেছেন, যা এবারের মৌসুমে সর্বোচ্চ।

এসব বিষয়ে জয়াবর্ধনে বলেন, 'বুমরা এখন অনেক অভিজ্ঞ। আমার মনে হয় ও নিজেও জানত (যে ও ফর্মে নেই)। তাই আমাদের ট্রেনিং স্টাফদের সঙ্গে এটা নিয়ে অনেকবার কথা হয়েছে। কোথায় আমরা ওকে পুশ করব আর কীভাবে... সেখানে একটা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারও ছিল, যেমন নেটে ও কতটুকু বল করবে বা প্রস্তুতি কেমন হবে। তাই শুরুতে আমরা কৌশলগতভাবে ওকে এমন কিছু পরিস্থিতিতে ব্যবহার করেছি, যাতে ও খুব বেশি চাপের মুখে না পড়ে।'

তবে সব মিলিয়ে বুমরা এবার ভালো খেলেননি, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে আইপিএল কাটিয়েছেন, এটাই সত্যি।