সিলেট টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশের পুরো গল্প হয়তো বলা হয়ে গেল একটি শব্দে: লিটন দাস। সেঞ্চুরি করেছেন তিনি, কিন্তু শুধু সেঞ্চুরি নয়, বরং একটি 'স্পেশাল' ইনিংস উপহার দিয়েছেন দলকে। স্কোরবোর্ডে লেখা থাকবে সেঞ্চুরি, কিন্তু পুরো ছবি বোঝাতে তা যথেষ্ট নয়। লিটনের এই ইনিংসটি আলাদা হয়ে থাকবে অনেক সেঞ্চুরির ভিড়ে।
লিটনের অসাধারণ লড়াই
বাংলাদেশ যখন ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপর্যস্ত, তখন লিটন দাস একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন। তার সঙ্গী তাইজুল ইসলাম ৪০ বলে ১৬ রান করলেও লিটন তাকে বিশেষভাবে আগলে রেখেছেন, বিশেষ করে সাজিদ খানের মুখোমুখি হতে দেননি। এই জুটি ২২ ওভার ধরে চলে, যার মধ্যে চা বিরতিও পড়েছে। বিরতির পরও লিটন লড়াই চালিয়ে যান।
নার্ভাস নাইন্টিজে লিটন
লিটন ৯৯ রানে থাকার সময় শরীফুল ইসলাম এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। মাঠের আম্পায়ার আউট দিলেও লিটন সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নেন। রিভিউতে দেখা যায় শরীফুল আউট ছিলেন না। পরে খুররম শেহজাদকে হুক করে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন লিটন। এ সময় পাকিস্তান অধিনায়ক ফিল্ডারদের ছড়িয়ে দিলেও লিটন বাউন্ডারি ও ছক্কা মেরে দলকে টেনে তোলেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে লিটনের তৃতীয় সেঞ্চুরি
এটি লিটনের টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয়। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতেও একই অবস্থায় ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর লিটন ১৩৮ রান করেছিলেন। সেবার মেহেদী হাসান মিরাজ ৭৮ রান করেছিলেন, কিন্তু আজ লিটন প্রায় একাই লড়াই করেছেন। তাইজুলের ১৬ রানই সঙ্গীদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
লিটনের এই ইনিংসটি তাই আলাদা। তিনি টেল এন্ডারদের আগলে রেখেছেন, সুইপ করে সাজিদ খানকে চার মেরে নার্ভাস নাইন্টিজ পেরিয়েছেন এবং খুররম শেহজাদকে হুক করে ছক্কা মেরে পাকিস্তানকে মানসিক ধাক্কা দিয়েছেন। এতটাই যে, শরীফুলের চার ঠেকানোর চেষ্টায় অধিনায়কের ভৎসর্নাও শুনতে হয়েছে একজন ফিল্ডারকে।
লিটনের গ্লাভসে বল লাগলেও পাকিস্তান রিভিউ না নেওয়ায় বেঁচে গেছেন। আবদুল্লাহ ফজলও একবার প্রায় ক্যাচ ধরেছিলেন। কিন্তু এসব কিছুই লিটনের কৃতিত্ব কমাতে পারে না। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এ রকম ইনিংস খুঁজতে গেলেও লিটনই ফিরে আসবেন। স্পেশাল সেঞ্চুরির জন্য তাকে অভিনন্দন!



