বজ্রপাতে হাফেজা কিশোরীর মৃত্যু, ভেস্তে গেল বিয়ে
বজ্রপাতে হাফেজা কিশোরীর মৃত্যু, ভেস্তে গেল বিয়ে

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বজ্রপাতে হাফেজা লিমা আক্তারের (১৬) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তার বিয়ে হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হলো না। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের সাত ধরুন এলাকার আব্দুর রব হাওলাদার বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত লিমা ওই এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী মো. খোকনের বড় মেয়ে। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের মাতম চলছে।

পরিবারের শোক

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র পাঁচ মাস আগে লিমা পবিত্র কুরআনের হাফেজা হওয়ার দিনই তার মা কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই লিমার বিয়ের আয়োজন চলছিল। গত ১৫ দিন আগে পারিবারিকভাবে তার আংটি বদল হয়। কথা ছিল আগামী সপ্তাহেই ধুমধাম করে গায়েহলুদের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে শ্বশুরবাড়িতে তুলে দেওয়া হবে; কিন্তু প্রকৃতির এক নিষ্ঠুর খেয়ালে বিয়ের পিঁড়িতে আর বসা হলো না তার।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

লিমার দাদা আবুল কালাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, বিকালে মাঠ থেকে গরু আনতে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় লিমাও তার পিছু পিছু যাচ্ছিল। হঠাৎ তীব্র বজ্রপাতে লিমার শরীর ঝলসে যায় এবং সে গুরুতর আহত হয়। প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লিমাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লিমার প্রতিবেশী ও স্থানীয় যুবদল নেতা মন্নান বলেন, ভাগ্য কতটা নির্মম হতে পারে তা লিমার পরিবারকে না দেখলে বোঝা যেত না। মেয়েটি যেদিন কুরআনের হাফেজা হয়ে বাড়ি ফিরল, সেদিনই তার গর্ভধারিণী মা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। মায়ের আদর বঞ্চিত মেয়েটি যখন নতুন করে স্বপ্ন দেখে বিয়ের পিঁড়িতে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তার আগমুহূর্তে বজ্রপাত সব শেষ করে দিল। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য

হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আপেল মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে এমন মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

কমলনগর থানার ওসি মো. ফরিদুল আলম বলেন, বজ্রপাতে কিশোরীর মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ধর্মীয় এবং সামাজিক দিক বিবেচনায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় লাশ দাফনের অনুমতি প্রদানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে জানান ওসি।