ঈদুল আজহার ছুটি বাড়ানো: সম্ভাব্য প্রভাব ও মতামত
ঈদুল আজহার ছুটি বাড়ানো: সম্ভাব্য প্রভাব ও মতামত

ঈদুল আজহা আসন্ন। ঈদ ঘিরে সরকারি ছুটি বাড়ানোর আলোচনায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বলছেন, দীর্ঘ ছুটি পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ বাড়ায়। কেনাকাটার কারণে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। আবার কেউ মনে করছেন, অতিরিক্ত ছুটিতে উৎপাদন, ব্যবসা ও সরকারি সেবায় ধীরগতি তৈরি হয়।

ছুটির পক্ষে মতামত

যারা ছুটি পান তারা বলছেন, টানা ছুটি হলে রাজধানী ফাঁকা হয়ে যায়, মানুষ স্বস্তিতে গ্রামের বাড়ি যেতে পারে। সড়ক ও রেলপথে যাত্রীর চাপ কয়েক দিনে ভাগ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিও কিছুটা কমে।

সরকারি এক প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মেহেরুল আলম বলেন, ছুটি বেশি পেলে পরিবারকে বেশি সময় দেওয়া যায়। সারা বছর কাজ করে। ঈদের সময় আগে আগে বাড়ি যেতে পারলে রাস্তার ভোগান্তিটাও কম হয়। সব মিলিয়ে খুব ভালো সময় কাটে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এদিকে বেসরকারি চাকরিজীবী মিঠি চৌধুরী বলেন, আমরা ঢাকায় থাকি। ঈদের ছুটি বেশিদিন হলে ঢাকা বেশ ফাঁকা থাকে। এতে পরিচ্ছন্ন এবং জ্যাম ছাড়া শহর উপভোগ করা যায়। অন্যদিকে পরিবারকে সময়ও বেশি দেওয়া যায়। আস্তে-ধীরে কেনাকাটা করা যায়। অনেক সময় আমরা বাড়তি কেনাকাটা করি। সব মিলিয়ে আনন্দটা বাড়ে।

ব্যবসায়ীদের মতামত

পলওয়েল মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী মহসিন ব্যাপারি বলেন, ঈদে বেশিদিন ছুটি থাকলে ঢাকার বাইরে বেশি লোক আগে আগে চলে যায়। এতে তাদের কেনাকাটা কমে যায়। যদিও নিয়মিত কেনাকাটা করেই তারা বাড়ি যান। এদিকে ঢাকা ফাঁকা থাকায় মানুষ আরামে কেনাকাটা করেন। আরামে কাজ করতে পারেন আমাদের কর্মচরিরা।

তিনি বলেন, ঈদের ছুটি বেশি বা কম হওয়ার সঙ্গে আমাদের কেনাকাটার সম্পর্ক কম। তবে আস্তে-ধীরে সব করায় আরাম পাওয়া যায়। ছুটির কম হলে কেনাকাটার ক্ষেত্রে সবাই খুব হুড়োহুড়ো করতে থাকে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পর্যটন খাতে প্রভাব

এদিকে পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। কক্সবাজার, সিলেট, বান্দরবানসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ে, ফলে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা লাভবান হন।

কক্সবাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ঈদের ছুটি বেশি হলে আমাদের জন্য লাভ। লোকজন বেশি বেড়াতে আসে। এমনিতে ছুটি কম হলে বেশিরভাগ মানুষ গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আপনজনের সঙ্গে কাটায়। কিন্তু ছুটি বেশি থাকলে তারা ঢাকার বাইরে পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়ারও পরিকল্পনা করে। এটা পর্যটন খাতের জন্য লাভজনক হয়।

ছুটির বিপক্ষে যুক্তি

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘ ছুটিতে ব্যাংকিং কার্যক্রম ও আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়ায় ধীরগতি দেখা দেয়। তৈরি পোশাকসহ রফতানিমুখী শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হলে নির্ধারিত সময়ের চালান পাঠাতে চাপ তৈরি হতে পারে। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজের চাপও পরে বেড়ে যায়।

দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, বন্ধ বেশি থাকলে অর্থনীতিতে ক্ষতি হয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হয়। জিনিসের দাম বাড়ে। ব্যাংকের লেনদেন কমে যায়। আয় কমে, ব্যয়ও কমে। লম্বা ছুটি দেওয়া উচিত না। ব্যবসা যারা করে তাদের উৎপাদন বন্ধ থাকে। এতে তাদের ক্ষতি হয়। অর্থনৈতিক ক্ষতিটা আমাদের খেয়াল রাখা উচিত।