সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনি রশ্মি বা ইউভি রশ্মি ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ইউভিএ ও ইউভিবি নামক এই রশ্মির দুটি ধরনই ত্বকে পোড়াভাব, বলিরেখা ও বয়সজনিত দাগ সৃষ্টি করে। এমনকি ত্বকের ক্যানসারের জন্যও এগুলো দায়ী। আমাদের দেশে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত কম হলেও এ বিষয়ে উদাসীন থাকার কোনো সুযোগ নেই।
রোদ ও ভিটামিন ডি: সঠিক ভারসাম্য
সুস্থ থাকার জন্য রোদ যেমন প্রয়োজন, তেমনি অতিরিক্ত রোদের ক্ষতি থেকেও বাঁচতে হবে। পর্যাপ্ত রোদ না পেলে দেহে ভিটামিন ডি তৈরি হয় না, যা ক্যালসিয়ামের অভাবসহ নানা জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই প্রতিদিন কিছু সময় শরীরের কিছু অংশ খোলা রেখে রোদে থাকা জরুরি। এই সময়টাতে কোনো সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যাবে না, যাতে ভিটামিন ডি সংশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত না হয়।
সুরক্ষার নিয়ম
ভিটামিন ডি-র জন্য নির্ধারিত সময় বাদে দিনের অন্য সময়ে রোদে গেলে সুরক্ষা নেওয়া বাধ্যতামূলক। কাপড় দিয়ে শরীর যতটা সম্ভব ঢেকে রাখাই উত্তম। কড়া রোদে হাফহাতা জামার চেয়ে ফুলহাতা জামা বেশি সুরক্ষা দেয়। মুখ ও শরীরের খোলা অংশে নিয়মিত সানস্ক্রিন লাগান। মনে রাখবেন, কোনো সানস্ক্রিনই শতভাগ সুরক্ষা দেয় না, এমনকি এসপিএফ ১০০ হলেও নয়।
এসপিএফ বাছাই
সানস্ক্রিন কেনার সময় এসপিএফ (সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর) দেখে নেওয়া জরুরি। এটি ইউভিবি রশ্মি থেকে সুরক্ষার মাত্রা নির্দেশ করে। এসপিএফ ৩০ প্রায় ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা দেয়, আর এসপিএফ ৫০ তার চেয়ে কিছুটা বেশি। বাংলাদেশের সূর্যালোক বিবেচনায় এসপিএফ ৫০ সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন ভালো, তবে ন্যূনতম ৩০ এসপিএফ ব্যবহার করাই বাঞ্ছনীয়। পানির কাছাকাছি গেলে এসপিএফ ৫০ ব্যবহার করা আবশ্যক, কারণ পানি সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত করে ক্ষতি দ্বিগুণ করতে পারে।
ব্রড স্পেকট্রাম ও ধরন
শুধু ইউভিবি নয়, ইউভিএ রশ্মি থেকেও সুরক্ষা প্রয়োজন। তাই ব্রড স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া ভালো, যা উভয় ধরনের রশ্মি থেকে রক্ষা করে। গরমে ঘামের কারণে সানস্ক্রিন সহজেই সরে যেতে পারে, তাই পাউডারজাতীয় সানস্ক্রিন ব্যবহার করা সুবিধাজনক। গুণগত মান নিশ্চিত করে রোদে যাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে পর্যাপ্ত পরিমাণে সানস্ক্রিন লাগান। এসপিএফ যতই হোক না কেন, রোদে থাকলে প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর পুনরায় লাগান। ঘেমে গেলে বা ভিজে গেলে আরও আগেই পুনরায় প্রয়োগ করুন।



